ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে 'দুর্নীতির সাম্রাজ্য', উচ্চমান সহকারী এনামুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৩:১৮ পিএম

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে একচ্ছত্র দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে উচ্চমান সহকারী মো. এনামুল হকের বিরুদ্ধে। টেন্ডার জালিয়াতি, বিভিন্ন ইজারা প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ অসংখ্য অনিয়মের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত বলে জেলা পরিষদে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের ঘনিষ্ঠ মানুষদের অসংগত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জেলা পরিষদে তিনি একটি নিজস্ব বলয় বা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ ইজারাদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয়ের ক্ষতিসাধন, অফিসে প্রতিনিয়ত অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সহকর্মীদের ওপর জোরপূর্বক প্রভাব বিস্তারের মতো বহু অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

অবাক করার বিষয় হলো, এসব গুরুতর অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত চলাকালীন অবস্থাতেই তিনি উচ্চমান সহকারী পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান সহকারী হয়েছেন। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক স্মারকপত্রের মাধ্যমে তাঁর এই বিতর্কিত পদোন্নতি অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ মে ও ২০ মে জমা পড়া লিখিত অভিযোগে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি, খেয়াঘাট, পুকুর, কার পার্কিং ও অডিটোরিয়াম ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ ইজারাদারদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ইজারার রশিদ দেওয়ার সময় মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেওয়ার দোহাই দিয়ে ইজারাদারদের কাছ থেকে যাতায়াত খরচ বাবদ আড়াই থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত পকেটস্থ করা হতো। এছাড়া কুলাউড়া ডাকবাংলোর সামনে রশিদ ছাড়া ফলের দোকানদারদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ারও তথ্য মিলেছে।

একইভাবে শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া অডিটোরিয়াম লিজ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারের পূর্বে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও এলাকায় মাইকিং করার বিধান থাকলেও কৌশল অবলম্বন করে বিজ্ঞপ্তি লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা হয়। শেরপুর মৎস্য আড়ৎ লিজের সময় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে টাকা তোলা এবং ইছাপুর খেয়াঘাটের ইজারাদার নুর মিয়ার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেখানো হয় মাত্র ১১ হাজার টাকা।

অপরদিকে মাধবকুণ্ডের কার পার্কিংয়ের ইজারা আদায় ও 'খাস কালেকশন' নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। জেলা পরিষদের সাবেক সার্ভেয়ার শরিফ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টাকা জমা নেওয়া, রশিদ কাটা, ভাউচার ইস্যুসহ কারিগরি সব কাজই এনামুল হক একা জোরপূর্বক নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। সার্ভেয়ারদের কোনো দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হতো না। তাঁর এই মানসিকতা ও প্রভাবের কারণেই পূর্বে একাধিক সার্ভেয়ার এই দপ্তর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

একই দপ্তরে দীর্ঘ ১৪ বছরের বেশি সময় থাকার সুবাদে জেলা পরিষদের টেন্ডার ও গোপন আর্থিক তথ্যাদি বাইরের সিন্ডিকেটের হাতে পৌঁছে দিতেন বলে তথ্য এসেছে। এসব অপকর্মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. এনামুল হক।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান জানান, অভিযোগগুলো তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগের সময়ের। তবে যেকোনো লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এখন সচেতন মহল চোখ রাখছে তদন্তের প্রকৃত ফলাফল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিকে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর