ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে সেপ্টেম্বরের শেষেই আকাশপথে ড্রোন নজরদারি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৩৮ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

রাজধানী ঢাকা শহরের তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যস্ততম সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স (নজরদারি) চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ইতোমধ্যে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের ড্রোনের সুনির্দিষ্ট ব্যবহার, পরিচালনা এবং কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকেই রাজধানীজুড়ে ড্রোনের মাঠপর্যায়ের ব্যবহার শুরু করতে পারে ডিএমপি।

 

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অত্যাধুনিক এই ড্রোনের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও তীব্র যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোর সরাসরি রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনগুলোকে সহজে শনাক্তকরণ, লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তীতে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করে সরাসরি ভিডিও চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলা দেওয়ার কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে রাজধানীর প্রতিদিনের ভয়াবহ যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

উদ্যোগটির বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, ড্রোন সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা বিশ্বের বহু উন্নত দেশে সফলভাবে চালু থাকলেও এটি বাংলাদেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ নতুন এক ব্যবস্থা। অনেক সময় দেখা যায় সমতল সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার কিংবা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, কিন্তু উঁচু স্থানে যানজট সৃষ্টির প্রকৃত কারণ দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব ঘটে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ড্রোন নজরদারি চালু হলে দ্রুততম সময়ে রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া যাবে, যা মাঠপর্যায়ে সঠিক ট্রাফিক নির্দেশনা দেওয়া সহজ করবে। ভবিষ্যতে ড্রোনে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন যুক্ত করা হলে তাৎক্ষণিক ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।

 

তিনি ঢাকার যানজটের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে বলেন, রাজধানীতে গণপরিবহন বা বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজে না থেমে যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় পেছনের পুরো সড়ক ব্লক হয়ে যায়। এর প্রধান কারণ বাসগুলো মালিকপক্ষ থেকে দৈনিক চুক্তিতে চালকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। চুক্তির নির্দিষ্ট টাকা তুলতে চালক ও কর্মচারীরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। উন্নত বিশ্বের মতো নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস পরিচালনা, বাস রুট রেশনালাইজেশন এবং ই-টিকিটিং পদ্ধতি পুরোদমে চালুর আগ পর্যন্ত এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি পুরোপুরি কমবে না।

 

ড্রোনের কার্যকর কাজের পরিধি সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রযুক্তিটির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী যানগুলোকে ওপর থেকে সরাসরি ভয়েস স্পিকারের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোন দিয়ে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ইন্টারনেট ও অনলাইন অবকাঠামোনির্ভর হওয়ায় এই প্রযুক্তি পরিচালনায় কিছুটা ব্যয় রয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে মামলার বিষয়ে তিনি জানান, মামলা বাড়ানো নয় বরং আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়ানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। অন্যায় এড়াতে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণের পর তা আইনি প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে।

 

ড্রোন পরিচালনার প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিষয়ে তিনি জানান, তেজগাঁও ও উত্তরা বিভাগের ট্রাফিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং অন্যান্য জোনের সদস্যদের প্রশিক্ষণও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগে এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে। এর আগে রাজধানীর শাহবাগসহ মোট ১৫টি সিগন্যালে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তি চালুর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ড্রোন সার্ভিলেন্স উদ্যোগটিও সফল করার চেষ্টা করছে ডিএমপি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর