ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

তিন বছরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র চার শতাধিক কারখানা বন্ধ : বাণিজ্যমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:৪০ পিএম

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত গত ৩ বছরের সময়কালে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে তথ্য প্রদান করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে নির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। উক্ত সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।


সংসদ সদস্য রুহুল আমিন তার প্রশ্নে জানতে চান, বাংলাদেশে বর্তমানে ঠিক কতগুলো তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে; বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা কী; এগুলো বন্ধ হওয়ার মূল কারণসমূহ কী এবং দেশের তৈরি পোশাক খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা?


জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিগত ৩ বছরে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সদস্যভুক্ত ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সদস্যভুক্ত ১২৩টিসহ প্রায় ৪০০-এরও বেশি গার্মেন্টস কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এসব বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহের প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


কারখানাসমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রধান কারণ চিহ্নিত করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বিক মন্দা, দেশের অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থ পাচারের দরুন ব্যাংকিং খাতে দেখা দেওয়া তারল্য সংকট কারখানা বন্ধের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদন এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব তদারকির সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি আকৃতির কারখানায় নতুন রপ্তানি আদেশ প্রদানে চরম অনাগ্রহ তৈরি হওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


একই অধিবেশনে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার স্বার্থে সরকার বহুমুখী সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫০ শতাংশ, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১.৫০ শতাংশের অতিরিক্ত আরও ০.৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা প্রদান, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত সকল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩.০০ শতাংশ সুবিধা এবং সমগ্র তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা ০.৩০ শতাংশ প্রদান।


পৃথক প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদে জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রতিদিন বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, বাজারে পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায়, বেআইনি মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্যতালিকা সঠিকভাবে প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য আইনগত অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক জরিমানা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন কর্তৃক গঠিত সিন্ডিকেট, কার্টেল ও অনৈতিক যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারের এই বাজার মনিটরিং ও তদারকি ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অধিকতর জোরদার রাখা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর