আলোচিত ডা. জাহাঙ্গীর কবির এবং তাঁর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান 'হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেড'-এর বিরুদ্ধে ওঠা নানা গুরুতর অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে স্বাভাবিক ইনসুলিন সম্পূর্ণ বন্ধ করে মনগড়া ‘কিটো ডায়েট ও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করার সরাসরি পরামর্শ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক আশঙ্কাজনক ডায়াবেটিক রোগীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
গুরুতর এই অভিযোগের সার্বিক সত্যতা ও প্রযুক্তিগত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করতেই বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে গণমাধ্যমকে নিশ্চিতভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতি পরিপন্থী এমন চিকিৎসাপদ্ধতি ও বিপজ্জনক পরামর্শের বিষয়টি তুলে ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (হরমোন ও ডায়াবেটিস) বিভাগ সরাসরি বিতর্কিত ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নির্দেশনামা বা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রচলিত ও বৈজ্ঞানিক ইনসুলিন প্রয়োগ বন্ধ রেখে অনুমোদনহীন কিটো ডায়েট এবং কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষতিকর পরামর্শ অনুসরণ করে জীবনঘাতী ব্যাধিতে আক্রান্ত ডায়াবেটিক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর যে জোরালো অভিযোগটি উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছে অধিদপ্তর। পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যেই মূলত ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত এই তদন্ত কমিটিকে আনীত অভিযোগের যাবতীয় বিষয়াদি নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট নিরপেক্ষ মতামত ও সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী গঠিত ছয় সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ঐতিহ্যবাহী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ এবং মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে কমিটির আহ্বায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। একই সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১ শাখা) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে উক্ত গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে।