ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

সালমান শাহ হত্যা মামলা

গ্রেপ্তারের আগে কোথায় কীভাবে থাকতেন ডন


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:২৩ এএম

বিনোদন ডেস্ক

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রথমবার হত্যা মামলার আবেদন করা হয় ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই। সেই থেকে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। সময় গড়ালেও মামলাটি নানা আইনি জটিলতায় দীর্ঘ দিন ঝুলে থাকে। অবশেষে গত বছর দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি লড়াইয়ের পর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা করার স্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন।

 

আদালতের নির্দেশের পরপরই সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় খলচরিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে প্রধান আসামিদের একজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। তবে হত্যা মামলা দায়েরের পরও ডন কোনো আত্মগোপনে না গিয়ে অত্যন্ত প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেন। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেন, ডন দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছে। কখনো তাকে জাতীয় নির্বাচনের কাজে অংশ নিতে দেখা গেছে, আবার কখনো এফডিসিতে গিয়ে বর্তমান চলচ্চিত্র নেতারা তাকে বরণ করে নিয়েছেন। তার নামে অবান্তর নানা কথা বলে বেড়ানো এবং প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার সাহসও দেখিয়েছে সে।

 

ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়ে নীলা চৌধুরী আরও বলেন, তিনি আইনের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় আদালতের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক বলে মনে করেন। ডন তদন্তকারীদের কাছে কী স্বীকারোক্তি দিচ্ছে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না হলেও এই হত্যাকাণ্ডে যে সে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তার ছেলের কারণেই ডন চলচ্চিত্রে স্থান পেয়েছিল এবং পরিচিতি অর্জন করেছিল। অথচ সেই ডনই অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করল, না হয় সালমান আজও বেঁচে থাকত। আজ সালমান বেঁচে থাকলে দেশের চলচ্চিত্রের সার্বিক চেহারাই বদলে যেত। হয়তো ছবি বানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেত। একই সঙ্গে মূল আসামি সামিরাকে এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং তার অবৈধ বিপুল অর্থসম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে পুলিশের প্রতি জোর দাবি জানান।

 

হত্যা মামলা করার পর ডনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপসহ নানা মাধ্যমে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। অবশেষে গত ৯ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের ঠিক কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে ডন দাবি করেছিলেন, তিনি বিগত ২৯ বছর ধরে নিয়মিত কাজ করছেন, এফডিসিতে যাচ্ছেন এবং শুটিং করছেন। দর্শক ভালোবাসে বলেই তিনি নিজের মতো ঘুরেফিরে কাজ করেন। তার মতে, নিজের সৎ সাহস আছে বলেই তিনি নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াতেন। এমনকি নীলা চৌধুরীকে বাংলাদেশে এসে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে বসে সবকিছুর ফয়সালা করার জন্য প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জও জানিয়েছিলেন ডন। সেই হুঙ্কারের কয়েক দিনের মধ্যেই বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার হতে হয় এবং বর্তমানে তিনি রিমান্ড শেষ করে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

 

অন্যদিকে, মামলা দায়ের হলেও ডন ব্যতীত এই মামলার অন্যান্য মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। প্রিয় নায়কের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজপথে নেমেছেন তার ভক্তরা। 'সালমান শাহ ভক্তবৃন্দ' ব্যানারে প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সমর্থকরা মূল আসামি সামিরাসহ বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন মামলাটি ঝুলে থাকার পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিবিআই একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল, যেখানে দাবি করা হয় সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তবে সালমানের পরিবার সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতে রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন বাতিল করে নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের ঐতিহাসিক নির্দেশ দেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর