বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজকর্মের ওপর কার্যকর নজরদারি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ও সম্পূর্ণ স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের দপ্তরে মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। মানবাধিকার পরিষদের উচ্চপর্যায়ের এই অধিবেশনে ভলকার তুর্ক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে পারে, এমন একটি কার্যকর ও স্বাধীন জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা তারা দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন।
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এর আগেও একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনকেন্দ্রিক তথ্যানুসন্ধান সংক্রান্ত মূল প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনাসহ সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক তদারকি বৃদ্ধি এবং কার্যকর জবাবদিহির প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সুপারিশগুলোতে দেশের বিদ্যমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সাংগঠনিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী ও স্বায়ত্তশাসিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার পর্যাপ্ত আইনি ক্ষমতা অর্জন করবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রণয়ন করা গুমসংক্রান্ত আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত সংশোধিত আইন নিয়ে দেশের মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের মতে, নতুন এই আইনগুলো স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা প্রয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে পুরোপুরি বজায় রাখতে পারছে না। ফলে স্বাধীন নজরদারির পথ সহজ করতে কার্যকর আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।