ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

২৪ বছরের দীর্ঘ বিরতি: অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে অবশেষে ডাক্তার হলেন হাবিবুল্লাহ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১:২৩ পিএম

একসময় জীবনযুদ্ধের নানামুখী জটিলতায় পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও অদম্য অটল ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজের সেই পূর্ব সিদ্ধান্ত বদলে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘদিনের শিক্ষা বিরতির পর আবার নিয়মিত কলেজে ফিরে যুক্ত হন ক্লাসে। কঠিন একাডেমিক বাধা ও জরিমানা দিয়ে পুনরায় ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজের প্রকাশিত চূড়ান্ত পেশাগত ফলাফল অনুযায়ী ৫১ বছর বয়সে সফলভাবে এমবিবিএস পাস করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফল ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। ফলাফল প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে অজস্র আন্তরিক শুভেচ্ছাবার্তায় ভাসছেন তিনি। বহু গণমাধ্যম তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে। মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ১৯৯৫-১৯৯৬ শিক্ষাবর্ষের ‘কে-৫৩’ ব্যাচের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী ছিলেন। দীর্ঘ দুই যুগের জটিল চড়াই-উৎরাই পার হয়ে অবশেষে তিনি ‘কে-৭৮’ ব্যাচের কনিষ্ঠ সহপাঠীদের সঙ্গে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন সম্পন্ন করলেন।

 

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে হাবিবুল্লাহ জানান, এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁকে অজস্র মানসিক ও সামাজিক বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০০২ সালে তাঁর এমবিবিএস সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা শেষ করতে পুরো ২৪টি বছর অতিরিক্ত লেগে গেছে। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুদের সার্বিক সহযোগিতার কারণেই তিনি আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। তাঁর ব্যাচের অনেক সহপাঠী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে শিক্ষাকতা ও অধ্যাপনা করছেন।

 

মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর এই দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির পেছনে ছিল পারিবারিক ও ব্যক্তিগত একাধিক জটিলতা। ১৯৯৬ সালে ক্লাস শুরুর পর একাডেমিক জটিলতা, শিক্ষকের সঙ্গে দূরত্ব এবং পারিবারিক টানাটানির কারণে তিনি মানসিক ভাঙনের মুখোমুখি হন। তাঁর বাবা সাবেক সিভিল সার্জন চিকিৎসক আবু বক্কর সিদ্দিক ২০০০ সালে ও মা ২০১৬ সালে পরলোকগমন করেন। এর পাশাপাশি ২০০২ সালে কিডনি জটিলতায় তাঁর স্ত্রীও অকালে মারা যান। ফলে পড়াশোনা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি।

 

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর সঙ্গে দেখা করে পুনরায় পড়াশোনা শুরুর আগ্রহ ব্যক্ত করেন হাবিবুল্লাহ। শিক্ষা বিরতির কারণে জরিমানার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা। তৎকালীন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার কমিটির সহায়তা, ‘কে-৫৩’ ব্যাচের বন্ধুদের সহযোগিতা এবং তাঁর নিজের জোগাড় করা অর্থে দুই লাখ টাকা পরিশোধ করে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

 

এখন তিনি নিয়মিত ইন্টার্নশিপ শুরু করার অপেক্ষায় আছেন। ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সাইকিয়াট্রি বা মনোরোগ বিদ্যায় উচ্চতর শিক্ষা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু জানান, ইচ্ছা আর সঠিক মেন্টরশিপ থাকলে অসাধ্য সাধন সম্ভব, যা হাবিবুল্লাহ প্রমাণ করেছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর