ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

খাতা পুনঃনিরীক্ষণে নতুন জিপিএ ৫ পেলেন ৩০৭৯ জন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৫২ এএম

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার পর পুনরায় খাতা খতিয়ে দেখার আবেদনে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী। একইসঙ্গে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর বাড়ায় গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে আরও হাজার হাজার শিক্ষার্থীর। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের সকল অর্থাৎ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে একযোগে পুনঃনিরীক্ষণের এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে ক্ষুদ্র বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ফলাফলের তথ্য পৌঁছানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শিক্ষাবোর্ড পোর্টাল থেকেও সহজে তাদের সংশোধিত ফলাফল জেনে নিতে পারছেন।


এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সে হিসেবে মূল ফল প্রকাশের ঠিক ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল হাতে পেলেন শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক ফলাফলে আকাঙ্ক্ষিত জিপিএ বা পাস না পেয়ে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছিল গত ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন শেষে নতুন এই ফল সামনে আনা হলো। উল্লেখ্য, চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল মাত্র ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বিগত ১৯ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সবচেয়ে কম। আশানুরূপ ফল না মেলায় দেশজুড়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে হতাশা দেখা দেয়, যার ফলশ্রুতিতে এবার পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি হয়।

 

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সব মিলিয়ে রেকর্ডসংখ্যক পরীক্ষার্থী নিজেদের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জানান। প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের উদ্দেশ্যে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। নীতিগতভাবে একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন।


এ কারণে মোট আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় জমা পড়া বিষয়ের আবেদনের সংখ্যা ছিল কয়েক গুণ বেশি। সব মিলিয়ে এবার লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আওতায় আনা হয়। অর্থাৎ মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি, যা দেশের শিক্ষা খাতে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা।

 

পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে আমূল পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানান, চলতি বছরে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ কার্যক্রমে গুণগত ও কৌশলগত বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সাধারণত পুনঃনিরীক্ষণের সময় শুধুমাত্র উত্তরপত্রের ভেতরের সব প্রশ্নের প্রাপ্ত নম্বর সঠিকভাবে যোগ করা হয়েছে কিনা কিংবা কোনো পৃষ্ঠায় নম্বর বাদ পড়েছে কিনা তা যাচাই করা হতো। কিন্তু এবার শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবং প্রতিটি উত্তরপত্র মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আবেদনকৃত উত্তরপত্রগুলোর নম্বর যোগের পাশাপাশি পুরো খাতা পুনরায় মূল্যায়ন বা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে প্রথম ধাপের মূল্যায়নে কোনো পরীক্ষকের ভুল বা ত্রুটি থাকলে তা দ্বিতীয় ধাপে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

 

আবেদনকারীদের বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা যায়, এবার সর্বাধিক আবেদন জমা পড়েছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার আবেদন জমা দেন। এছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। একইসঙ্গে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ শেষে প্রকাশিত ফল হাজারো শিক্ষার্থীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে এবং উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর