বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডকে দেশের সাধারণ, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক মুক্তির এক বাস্তব হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সমবায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কার ও সার্বিক পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে জাতীয় স্তরে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওস্থ সমবায় অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ৪৯তম সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির ভাষণদানকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে এই বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান সমবায় ভাবধারার মৌলিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, সমবায় কাঠামোর মূল ও প্রধান লক্ষ্য কখনোই অনিয়ন্ত্রিত মুনাফা অর্জন করা হতে পারে না; বরং সমাজের দরিদ্র, অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষদের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করাই এর প্রধান অঙ্গীকার। তবে একই সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালনের পাশাপাশি এই আর্থিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে বাজারে স্বকীয়তায় টিকিয়ে রাখতে হলে কঠোর অর্থায়ন শৃঙ্খলা এবং প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-কানুন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলাও অত্যন্ত জরুরি।
ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও আদায় সংক্রান্ত পরিস্থিতির কঠোর মূল্যায়নের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিয়ে তা যথাসময়ে পরিশোধ না করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের কৃষক ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ভয়াবহ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অনিবার্য কোনো বাস্তব কারণে নেওয়া ঋণ পরিশোধে সাময়িক সমস্যা দেখা দিলে, তা সম্পূর্ণ মানবিকভাবে পর্যালোচনা ও বিবেচনা করা হবে। কিন্তু গ্রাহক যদি ঋণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্য কোনো ব্যবসায়িক কাজে বা ভিন্ন খাতে ব্যয় করে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হওয়ার পথ বেছে নেন, তবে সেই অপকৌশল রাষ্ট্রীয়ভাবে বিন্দুমাত্র মেনে নেওয়া হবে না।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ব্যাংকের সার্বিক প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়টিতে আলোকপাত করেন। সমবায় ব্যাংকের কাঠামোগত ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্টভাবে কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আশ্বাস প্রদান করেন যে, দেশের অসচ্ছল মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ও সামাজিক কল্যাণে এই ব্যাংকটিকে ভবিষ্যতে আরও বেশি সমন্বিত ও কার্যকর করতে তিনি দেশের মূল সমবায়ীদের সঙ্গে সরাসরি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ সেলিম ফকির। অনুষ্ঠানে সমবায় খাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিতি থেকে সমবায় ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।