ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

৫ মাসে ২০৪ কোটি ডলার পরিশোধের রেকর্ড

বিগত সরকারের বিশাল ঋণের বোঝা সামলাচ্ছে বিএনপি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:২৭ পিএম

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল অঙ্কের বিদেশি ঋণের রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার। আন্তর্জাতিক আর্থিক চাপ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়েও দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পাঁচ মাসেই (মার্চ থেকে জুলাই) রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য মতে, বাংলাদেশে যেকোনো পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।


অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ের নেওয়া বিশাল ঋণের কিস্তি পরিশোধের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সামলাচ্ছে নতুন সরকার। ইআরডির হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার বা প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার (প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা)। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই—এই পাঁচ মাসে ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এতে গড়ে প্রতি মাসে সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ৪১ কোটি ডলার বিদেশে বের হয়ে গেছে।


উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর বিপুল ঋণের বোঝা সামলানো বর্তমান সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সরকার বড় বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে প্রচুর বিদেশি ঋণ গ্রহণ করেছিল। সেসব প্রকল্পের অবকাশকাল বা গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসায় এখন মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধের চূড়ান্ত চাপ পড়েছে নতুন সরকারের ওপর।


প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, আগের সরকারের অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পের 'ভ্যালু ফর মানি' বা অর্থের যথার্থ সুফল বিবেচনা না করায় এই সংকটের তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিপুল ভর্তুকির বোঝা সামলাতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়ম মেনে সকল আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধ করে যাওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার যত্রতত্র ঋণ নেওয়া বন্ধ করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা কমাতে নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রকৃত উপযোগিতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রিটার্ন নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।


ইআরডির পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২৬৭ কোটি ডলার, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে ৩ ৩৭ কোটি ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৪৯ কোটি ডলারে। স্পষ্টতই, এই চাপ কোনো নতুন ঋণের জন্য নয়, বরং আগের নেওয়া প্রকল্পগুলোর কিস্তি পরিশোধযোগ্য হওয়ার ফলেই তৈরি হয়েছে। তবে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের আর্থিক মর্যাদা ও নির্ভরযোগ্যতা অটুট রেখেছে বর্তমান সরকার।


এ সম্পর্কিত আরো খবর