ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

শেখ হাসিনা ছিলেন 'বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী': স্পিকার


স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

  • আপলোড সময় : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৩০ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ বলে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় সমালোচনা ও অভিযুক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে শেখ হাসিনা গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের অত্যন্ত কৌশলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকে পাঠাতেন এবং মানবিকতার মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে তাঁদের স্ত্রী ও নিষ্পাপ সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে মিথ্যা সান্ত্বনা দিতেন। তবে সেই বাহ্যিক সমবেদনার অন্তরালেই গোপন থাকত গুম, নির্যাতন ও অপহরণের মতো ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র ও নিষ্ঠুর মনোভাব। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কড়া মন্তব্য করেন।


মতবিনিময়সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা বারবার আশ্বস্ত করে বলতেন যে খুব শিগগিরই তাঁদের প্রিয়জনদের খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি নিজেই মনে মনে নিশ্চিতভাবে জানতেন, গুম হওয়া ব্যক্তিরা ঠিক কোথায় আছেন এবং তাঁদের প্রতি কী নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে। তাঁর এসব পরিকল্পিত ছলনাময় আচরণ ও নাটकीय অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি কার্যত বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় প্রদর্শন করেছেন। সেই সময়ে সাধারণ জনগণ তাঁর এই সুচতুর রাজনীতির রহস্য বুঝতে না পারলেও এখন দেশের আপামর মানুষের কাছে সব সত্য উন্মোচিত ও পরিষ্কার হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের দেওয়া অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দাপ্তরিক তথ্যের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, শেখ হাসিনা নিজেই ছিলেন এসব গুমের প্রধান নির্দেশদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারী।

বিগত সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা জারি রেখে স্পিকার আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনকালের নজিরবিহীন অপকর্ম, অত্যাচার ও বেপরোয়া দুর্নীতির কারণেই কুখ্যাত নেত্রী শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর সরকারের অবৈধ শাসনের সহযোগী হয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের তৎকালীন খতিবও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এই ১৭ বছরে যে যেখানে দায়িত্বশীল পদে বসে ছিলেন, সবাই জনরোষের ভয়ে পালিয়েছেন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন থানায় চরম বিতর্কিত ভূমিকা পালন করা প্রায় ৬০০ জন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণভয়ে বিভিন্ন সেনানিবাসে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।


পুলিশ বাহিনীর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ সম্পর্কে স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে খুশি রাখা এবং নিজেদের আখের গোছানোর জন্য পুলিশ বাহিনী দেশের সাধারণ মানুষের ওপর সীমাহীন অত্যাচার ও চরম নিপীড়ন চালিয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা এই সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণেই শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কার্যালয়ের পিয়ন পর্যন্ত সবাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বেনজীর আহমেদের সম্পদের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাবেক এই বিতর্কিত পুলিশ প্রধান বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ জমিজমা অবৈধ উপায়ে নিজ স্ত্রী ও সন্তানাদির নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। এমনকি দেশের সুরক্ষিত বনাঞ্চল নিজের দখলে নিয়ে এবং ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় অগণিত বাড়িঘর ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।


বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে বিনা ভোটে হওয়া তৎকালীন তথাকথিত এমপিরা রাজনীতি করার নামে দেশজুড়ে চরম লুটপাট চালিয়েছেন। তাঁদের গড়ে তোলা অবৈধ সম্পদের পরিমাণ সীমাহীন। গ্রাম, ঢাকা এবং বিশ্বের বহু দেশে তাঁদের যে কত বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদ রয়েছে তা কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন।


রাজনীতির নামে এমন বেপরোয়া লুটপাটের কারণেই আজ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে রাজনীতিবিদদের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আয়োজিত উক্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়সভায় লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েত, পৌর বিএনপির সভাপতি ছাদেক জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর