ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:১০ পিএম

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন—এ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই চরম জল্পনা-কল্পনা চলছে। বর্তমানে আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছেন তাঁর কিশোরী কন্যা কিম জু আয়ে। তবে সম্প্রতি সর্বসমক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সামরিক কর্মসূচি ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে জু আয়ের উপস্থিতি বাড়ার সাথে সাথে তাঁর কোনো বড় ভাই বা জ্যেষ্ঠ ছেলে সন্তান রয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের ধোঁয়াশা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার মতো চরম অনুশাসনমূলক ও প্রথাগত পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন নারীকে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসানোর প্রক্রিয়াটি বাস্তবিক অর্থে কতটা গ্রহণযোগ্য বা সহজ হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর মতভেদ ও বিভাজন রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।


তথ্যমতে, ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের দেশের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) সংসদীয় একটি বিশেষ কমিটিকে কিম জু আয়ের এক জ্যেষ্ঠ ভাই থাকার সম্ভাব্য তথ্য প্রদান করেছিল। তবে পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্যের পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করেনি। পরবর্তীতে এনআইএস এক বিবৃতিতে জানায়, কিম জং উনের প্রথম সন্তান হিসেবে কোনো পুত্রসন্তান রয়েছে কি না, সেই খবরের সত্যতা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাইয়ের চেষ্টা তখনও অব্যাহত ছিল।


উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের প্রশাসনিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে এই তথ্যটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির ইতিহাসের তিন শীর্ষ নেতাই ছিলেন কিম বংশের পুরুষ সদস্য—প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং, তাঁর পুত্র কিম জং ইল এবং বর্তমান শাসক কিম জং উন। তিনজনই দেশের সর্বোচ্চ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিচালনা করেছেন।


ফলে কোনো কারণে কিম জু আয়ে ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার একক ক্ষমতার সরাসরি উত্তরাধিকারী হলে, তা দেশটির ঐতিহ্যগত সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। কিছু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, দেশটির প্রবীণ, ক্ষমতাধর ও সামরিক বাহিনীতে প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারী নেতার পূর্ণ আনুগত্য মেনে নিয়ে তাঁর অধীনে কাজ করতে কতটা প্রস্তুত বা আগ্রহী হবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।


এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য পারিবারিক ও রাজনৈতিক জটিলতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে জু আয়ে উত্তর কোরিয়ার বাইরের বা ভিন্ন কোনো সাধারণ পরিবারের পুরুষকে বিয়ে করলে তাঁদের পরবর্তী উত্তরাধিকার নিয়েও চরম জটিলতা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁর সন্তান ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে কিম পরিবারের রক্তধারার সরাসরি শাসনের দীর্ঘ ধারাবিকতা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে বলে মনে করেন অনেক উত্তর কোরিয়া গবেষক।


তবে অন্য এক দল রাজনীতি বিশ্লেষক মনে করেন, ৪২ বছর বয়সী কিম জং উনের এখনই তাঁর উত্তরসূরি চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার বাস্তব কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কারণ, নিজের জীবদ্দশায় বা ক্ষমতায় থাকাকালে আগেভাগে কোনো উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করলে তা তাঁর নিজের একচ্ছত্র রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন পিয়ংইয়ংয়ের দিকে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর