রাজধানী ঢাকা নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অপরাধ দমনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযান চলাকালে গত ২৪ ঘণ্টায় এক বিশাল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ডিএমপির আওতাধীন রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় চালানো এই ধারাবাহিক অভিযানে নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় নগরীর সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে ৬১টি পৃথক মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযান সংক্রান্ত এই চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অপরাধীদের গোপন আস্তানা ও সম্ভাব্য স্পটগুলোতে একযোগে চালানো এই বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গুলি, উচ্চমাত্রার অবৈধ মাদকদ্রব্য, অপরাধ সংগঠনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং প্রচুর নগদ অর্থ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন ডিএমপির সদস্যরা।
ডিএমপি ঘোষিত অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুসারে, গ্রেপ্তার হওয়া ৫৪৬ জন অপরাধীর মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩৬ জন, ঐতিহ্যবাহী লালবাগ এলাকা থেকে ৩০ জন, ওয়ারী থানা এলাকা থেকে ৮৬ জন, বাণিজ্যিক অঞ্চল মতিঝিল বিভাগ থেকে ৬৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৪ জন, বিস্তৃত মিরপুর বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১৫২ জন, অভিজাত গুলশান এলাকা থেকে ৪৯ জন, উত্তরা অঞ্চল থেকে ৩৫ জন এবং ডিএমপির বিশেষায়িত গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অভিযানে ১৯ জনকে জালে তোলা হয়েছে।
সাঁড়াশি এই অভিযান পরিচালনাকালে দুষ্কৃতকারীদের কাছ থেকে ১টি বিশেষ বিদেশি পিস্তল, ১টি ভারী ম্যাগাজিন এবং ৯ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রাজধানী মুক্ত করার লক্ষ্যে উদ্ধার করা হয় ১ কেজি ৯৬০ গ্রাম গাঁজা, ১৩ হাজার ৮৭০ পিস মারাত্মক ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৩ দশমিক ৮ গ্রাম মরণঘাতী হেরোইন এবং ২১০ বোতল অবৈধ ইস্কাফ (ফেনসিডিল)।
অস্ত্র ও মাদকের পাশাপাশি অভিযানে অপরাধীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রের তালিকা থেকে ১টি ম্যাগাজিনসহ খেলনা পিস্তল, ১টি স্পর্শকাতর ওয়াকিটকি, ১ জোড়া ধাতব হাতকড়া, গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় সংবলিত ২টি ডিবির জ্যাকেট, ১টি অটোরিকশা, ৩টি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ১৪টি স্মার্ট মোবাইল ফোন, ২টি ব্যবহূত গুলির খোসা, ১টি ফয়েল পেপার এবং নগদ ১৩ হাজার ৩০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুরো অভিযান চলাকালে ডিএমপির বিশেষ দল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ৩ জন অপহৃত বা জিম্মি ভিকটিমকেও নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ডিএমপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন নিশ্চিত করেন যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্ব স্ব থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম সম্পন্ন করে পরবর্তী কঠোর আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।