নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বড়গ্রাম এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, কাপড়চোপড় ও গৃহস্থালির আসবাবপত্রসহ সবকিছুই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় তাদের প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিংড়া উপজেলার ২ নম্বর ডাহিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়গ্রাম এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেনের বসতবাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে হঠাৎ ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত ইসমাইলের বাড়িতে ছুটে যান। পরে গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর পাশাপাশি আগুন যাতে আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে চেষ্টাও চালান তারা।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে স্থানীয়দের নিরলস প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই ইসমাইল হোসেনের বসতবাড়ির তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় ঘরের বিভিন্ন মালামালও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরগুলোতে থাকা প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগুনে পুড়ে যায়। এর মধ্যে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার, কাপড়চোপড় এবং বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালির আসবাবপত্র ছিল। আগুনে এসব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
পরিবারটির তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। আগুনে ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে তারা বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলের চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বসতঘরের জায়গায় পড়ে থাকে পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পর দ্রুত সবাই এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ইসমাইলের পরিবারের তিনটি ঘর রক্ষা করা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারটি আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়েছে। সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।