দেশে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন রোগী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত এক দিনে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বিভাগীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে খুলনা বিভাগে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৫২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও এডিসের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় বিভিন্ন হাসপাতালে ২২৭ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চিকিৎসাকেন্দ্রে ২০৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন এবং ঢাকা বিভাগের সিটি কর্পোরেশনের বাইরের জেলাগুলোতে ১৯০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশের উত্তরাঞ্চল ও অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, রংপুর বিভাগে ৩৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন।
নতুন এই প্রাণহানি ও আক্রান্তের হিসাব যুক্ত হওয়ার পর চলতি ২০২৬ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৬ জনে। মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মশক নিধন অভিযানের ঘাটতি এবং প্রজননস্থল ধ্বংসে জনসচেতনতার অভাবে দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক আকার ধারণ করছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাস প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জ্বর হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।