সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 66
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গবাদিপশু চুরির ঘটনা। একের পর এক সংঘটিত গরু চুরির ঘটনায় উপজেলাজুড়ে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক, ক্ষোভ ও গভীর নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের মুখে অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অন্তত ১৯টি গরু চুরির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। নিজেদের সর্বস্ব ও জমানো মূলধন দিয়ে লালন-পালন করা গরুগুলো হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু প্রান্তিক কৃষক। ফলে পুরো এলাকার কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোর মধ্যে এখন চরম দুশ্চিন্তা ও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ২৩ আগস্ট রাতে তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের সিংগাড়পাড়া এলাকা থেকে এক রাতে ৫টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর কিছুদিন পর, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তাড়াশ পৌরসভার খুটিগাছা গ্রামের কৃষক হায়দার আলীর গোয়ালঘরের শক্ত তালা ভেঙে ৮টি মূল্যবান গরু চুরি করে চোরচক্র। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়াড়ি গ্রাম থেকে ৪টি এবং পার্শ্ববর্তী কুসুম্বি গ্রাম থেকে আরও ২টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে কেবল এসব এলাকা থেকেই মোট ১৯টি গরু চুরি হয়ে গেছে।
গরু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে এখন শুধুই কান্নার রোল ও আহাজারি চলছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, তারা তাদের জীবনের যাবতীয় কষ্টার্জিত সঞ্চয় ও মূলধন একত্র করে এসব গরু পালন করে আসছিলেন। হঠাৎ করে গোয়ালঘর খালি হয়ে যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে একেবারেই পঙ্গু হয়ে পড়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, খুটিগাছা গ্রামের কৃষক হায়দার আলীর চুরি হওয়া ৮টি গরুর বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। ঘরের সম্বল গরুগুলো এক রাতেই চুরি হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। চুরির শিকার অন্য কৃষক ও খামারিদের অবস্থাও একইভাবে করুণ ও দিশেহারা।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ চোরচক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে বসতবাড়ি ও গোয়ালঘরকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। সাধারণত রাত আনুমানিক ১টার পর পুরো এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে এলে চোরচক্রের সদস্যরা গোয়ালঘরের তালা কেটে কিংবা ভেঙে ফেলে। এরপর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একসঙ্গে একাধিক গরু বের করে এনে সড়কে অপেক্ষমাণ বিশেষ গাড়িতে তুলে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরপর এসব চুরির কারণে কৃষক ও খামারিদের রাতে ঘুম হারাম হয়ে গেছে; রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।