ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৫১ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপ মহাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া গভীর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের পারমাণবিক নিরাপত্তা বলয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। প্রতিবেশী রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসনের হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ইউরোপের নিরাপত্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নানামুখী অনিশ্চয়তার জের ধরে এই ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে হেলসিঙ্কি।

 

গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নতুন এবং সুদূরপ্রসারী কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে প্যারিস ও হেলসিঙ্কির মধ্যে সামরিক ও পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এক অভূতপূর্ব মাত্রা লাভ করল।

 

চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি একই দিনে ফিনল্যান্ড সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, তারা ফ্রান্সের প্রস্তাবিত 'ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স ইনিশিয়েটিভ'-এ (অগ্রবর্তী প্রতিরোধ উদ্যোগ) সরাসরি যোগ দিতে যাচ্ছে। ফিনল্যান্ডের এই নতুন অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ফরাসি পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার আওতায় আসা ইউরোপীয় রাষ্ট্রের সংখ্যা বেড়ে ১১টিতে পৌঁছেছে। ফিনল্যান্ড হলো বিশেষ এই নিরাপত্তা উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়া দশম ইউরোপীয় মিত্রদেশ।

 

এর আগে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, ডেনমার্ক এবং নরওয়ে ইউরোপের নিরাপত্তায় ফ্রান্সের এই পারমাণবিক প্রতিরোধ উদ্যোগে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব জানিয়েছেন, কৌশলগত এই ঐতিহাসিক উদ্যোগটির মূল এবং প্রাথমিক লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসন প্রতিরোধ করে সমগ্র ইউরোপ মহাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও সুসংহত করে তোলা।

 

পরিকল্পিত এই কৌশলগত পারমাণবিক সহযোগিতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফ্রান্স ও ফিনল্যান্ড একটি যৌথ ‘পারমাণবিক বিষয়ক স্টিয়ারিং গ্রুপ’ গঠন করবে। গঠিত এই স্টিয়ারিং গ্রুপই দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক প্রতিরোধ সংক্রান্ত সার্বিক সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।

 

তবে প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, ফ্রান্সের নেওয়া এই নতুন পরমাণু উদ্যোগটি কোনো অবস্থাতেই উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের (ন্যাটো) বিদ্যমান পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিকল্প বা সমান্তরাল কিছু নয়। ফ্রান্সের সঙ্গে এই গভীর সামরিক চুক্তিতে পৌঁছানোর পূর্বে পুরো বিষয়টি মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশদ ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করে নেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

 

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন নতুন অবস্থান গ্রহণ করায় ইউরোপের দেশগুলো এখন নিজেদের সামরিক প্রতিরক্ষা স্বনির্ভর ও জোরদার করার বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ভূখণ্ডের কাছাকাছি অবস্থিত পূর্ব ও উত্তর ইউরোপের সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এই জাতীয় বিকল্প পারমাণবিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার আগ্রহ বর্তমানে বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

ফ্রান্সের এই বিশেষ পারমাণবিক নিরাপত্তা উদ্যোগ নিয়ে বর্তমানে ইউরোপের আরেক রাষ্ট্র এস্তোনিয়াও প্যারিসের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল জানিয়েছেন, তার দেশ বর্তমানে ন্যাটোর পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে অবস্থান করছে এবং ফরাসি সামরিক বাহিনী সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে নিরাপত্তা প্রদান করছে। ফলে পারমাণবিক নিরাপত্তার পরিধি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ থাকলে তারা সেটি গ্রহণে আগ্রহী।

 

ফ্রান্সের নির্দেশিত এই পারমাণবিক বলয় ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক বৈচিত্র্য রয়েছে; এখানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ও একচ্ছত্র ক্ষমতা শুধুমাত্র ফরাসি প্রেসিডেন্টের হাতেই সংরক্ষিত থাকবে। ন্যাটোর সমন্বিত কাঠামোর মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এখানে বহুপক্ষীয় নয়।

 

তবে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া ১১টি দেশ যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম উন্নত সামরিক সরঞ্জাম অল্প সময়ের জন্য মিত্রদেশের ভূখণ্ডে সাময়িকভাবে মোতায়েন করার সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি দেশগুলো নিজেদের ভৌগোলিক নিরাপত্তা রক্ষায় কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদান ও পরামর্শ করার সুযোগ উপভোগ করবে। (সূত্র: আল-জাজিরা, এএফপি)


এ সম্পর্কিত আরো খবর