অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় মধ্যরাতে পার্কিং করে রাখা একটি যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে বসিলা রোডের ‘জল তরঙ্গ সুইমিং পুল’-এর মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘মিডলাইন পরিবহনের’ একটি বাসে হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বসিলা রোডে পার্কিং করা বাসে আগুন লাগার এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম। তিনি জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে বসিলা রোডের জল তরঙ্গ সুইমিং পুলের সামনে সুনির্দিষ্টভাবে পার্কিং করে রাখা মিডলাইন পরিবহনের একটি বাসে (যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯৪২১) হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বাসটির ভেতরের আসন ও বাইরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত কাজ শুরু করে বাসটির আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানিয়েছে যে, বাসের ইঞ্জিন বা যান্ত্রিক গোলযোগ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. আবদুল হালিম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মিডলাইন বাস কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। পরিবহন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির দিনের বেলায় গ্যারেজে বেশ কিছু যান্ত্রিক মেরামতের কাজ করা হয়েছিল। ফলে দিনের বেলায় সম্পন্ন করা মেরামতের ত্রুটি কিংবা বাসের ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে যান্ত্রিক ত্রুটির প্রাথমিক ধারণার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, গোলযোগ কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড জড়িত রয়েছে কিনা—সে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। নাশকতার কোনো চক্রান্ত বা দুষ্কৃতকারীদের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে দুর্ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সড়কগুলোর একাধিক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটি। সিসিটিভি ফুটেজ বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।