ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত বেনিনের বিপক্ষে শেষবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামছেন মেসি হরমুজ প্রণালীর আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ড্রোন ধ্বংস দেশে প্রথমবারের মতো আসছে ইলেকট্রিক ট্রেন মক্কায় হুতিদের ড্রোন হামলা ব্যর্থ করল সৌদি আজ বিশ্ব ওজোন দিবস: লক্ষ্য বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশ সুরক্ষা সরকারি অফিসে জবাবদিহি নিশ্চিতে ডিজিটাল হাজিরার নির্দেশ

সরকারি অফিসে জবাবদিহি নিশ্চিতে ডিজিটাল হাজিরার নির্দেশ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:০২ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম সচিব সভা রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সার্বিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল হাজিরা চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনতেও সভায় বিস্তারিত দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাসের মাথায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের এই নীতি-নির্ধারণী সভার সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

 

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সর্বশেষ সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুর দিকে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। এরপর প্রায় দেড় বছর ওই সরকার দায়িত্ব পালন করলেও নতুন করে কোনো সচিব সভার আয়োজন করা হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ দুই বছর পর এই সভা অনুষ্ঠিত হলো। মূলত সচিব সভা হচ্ছে সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা। এই সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ সচিবরা উপস্থিত থেকে সরকারের সার্বিক নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় সাধনের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ পান।

 

এবারের সচিব সভার সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচিতে মূলত চারটি প্রধান বিষয় স্থান পেয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয়াদি পর্যালোচনা, ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ বিষয়ক প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা এবং সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণ। এর পাশাপাশি দেশের জনগণের ওপর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয় সচিবরা সভায় উপস্থাপন করলে তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

 

সভা সূত্রে জানা গেছে, এবার সভার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে চলমান বিদ্যুৎ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বিষয়সমূহ। বিশেষ করে চলমান ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং সার্বিক বিদ্যুৎ খাতের ওপর কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ তৈরি করতে না পারে, সে জন্য আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের ভেতরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বহুগুণ বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

 

সভায় উপস্থিত একজন শীর্ষ সচিব জানান, ইরান যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে করণীয় নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই সম্ভাব্য অভিঘাত থেকে দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতকে সুরক্ষার কৌশল হিসেবে সরকারি ভবন ও স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন, বেসরকারি খাতকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির অনুপাত বাড়ানোর রূপরেখা দেওয়া হয়।

 

এছাড়া সরকারি চাকরির শূন্য পদ পূরণ করা এবং সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি যেমন—‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘খাল খনন’ কর্মসূচি দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির অর্থ ব্যয় ও উপকারভোগী নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সরকারি অফিসের কর্ম পরিবেশ ফেরাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল হাজিরা চালু ও তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।


এ সম্পর্কিত আরো খবর