ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত বেনিনের বিপক্ষে শেষবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামছেন মেসি হরমুজ প্রণালীর আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ড্রোন ধ্বংস

তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনা চরমে

হরমুজ প্রণালীর আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ড্রোন ধ্বংস


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:১৮ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে উড্ডয়নকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সর্বাধুনিক ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) চালকবিহীন গোয়েন্দা ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইআরজিসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের শক্তিশালী অ্যারোস্পেস ফোর্স হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় মার্কিন ওই ড্রোনগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ নতুন এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি দেশীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় এবং আকাশেই সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ইরানি গণমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীর এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ড্রোনগুলো ইরানের অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকা সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নজরদারির আওতায় ছিল। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্তের পরপরই উন্নত প্রযুক্তির সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য) ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সেগুলোতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানা হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে দাবি করা হয়েছে, ড্রোনগুলো ইরানের সীমান্ত এলাকা বা সমুদ্রসীমায় কোনো ধরনের হামলা বা নাশকতামূলক তৎপরতা চালানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই সেগুলোকে আকাশেই পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, একই এলাকা থেকে তিন-তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার এই দাবিটির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় আরেকটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংস করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল আইআরজিসি। এর পাশাপাশি গত সপ্তাহের শেষের দিকেও ইরানের জাতীয় সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে নিখুঁত অভিযানে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি তুলেছিল। এভাবে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর একাধিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

 

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে যে পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক ক্ষমতার লড়াই ও উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববাজারের অর্ধেকেরও বেশি তেলের বাণিজ্য চালনাকারী এই আন্তর্জাতিক জলপথে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক সামরিক তৎপরতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করেছে তেহরান।

 

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাসের বিভিন্ন সংঘাতের সময় প্রযুক্তিগতভাবে জটিল ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল মার্কিন 'এমকিউ-৯ রিপার' (MQ-9 Reaper) ড্রোনের বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। ফলে ওই মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তুলনামূলক পুরোনো এবং সহজলভ্য এমকিউ-১ মডেলের ড্রোনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছিল। তবে সংঘাতপূর্ণ এই সমুদ্রসীমায় একের পর এক ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর কিংবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর