ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৪১ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার অত্যন্ত আলোচিত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসন—নন্দিগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নন্দিগ্রাম আসন থেকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রেজিনগর আসন থেকে বাবরি মসজিদ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসা রাজনীতিক হুমায়ুন কবির বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তবে নির্বাচনে তারা দুজনই পৃথক দুটি করে ভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছিলেন।

 

বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটি মাত্র আসন নিজের কাছে রেখে অন্য আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। ফলে উভয় নেতা একটি করে আসন রেখে অন্যটি ছেড়ে দেওয়ায় প্রশাসনিকভাবে পদ শূন্য ঘোষণা করা দুটি আসনে এই বহুল কাঙ্ক্ষিত উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ অক্টোবরের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক শোরগোল ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

আসন্ন এই উপনির্বাচনের প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তামূলক মন্তব্য করেছেন হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রকাশ্য বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেছেন যে, নন্দিগ্রাম ও রেজিনগর—এই দুটি আসনের উপনির্বাচন কার্যত অঞ্চলের স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের জনগণের জন্য একটি বড় ধরণের রাজনৈতিক পরীক্ষা। এই নির্বাচনে মুসলিম ভোটাররা কীভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং ফলাফলে পাস করবেন নাকি ফেল করবেন, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি সংখ্যালঘু সমাজকে উদ্দেশ করে বলেন, নন্দিগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘু বা মুসলিম ভাইদের সামনে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ এসেছে। আপনারা মূলধারার সরকারের সাথে নিজেদের সামিল রাখতে চান নাকি চান না, তা নির্বাচনের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

 

তিনি আরও যোগ করেন, আপনারা যদি বর্তমান সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে থাকতে চান এবং প্রশাসনিকভাবে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাহলে আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দিগ্রামে আপনাদের রাজনৈতিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর এই পরীক্ষায় আপনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাস করবেন নাকি ফেল করবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমি আপনাদের বিবেকের ওপরই ছেড়ে দিলাম।

 

ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিচারে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত নন্দিগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদ জেলার আওতাধীন রেজিনগর—উভয় অঞ্চলই মূলত বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী সমীক্ষা অনুযায়ী, এই দুটি আসনেই সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট বিজয়ের সমীকরণ নির্ধারণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

উপনির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার স্বয়ং নন্দিগ্রামে এক বিশাল জনসভায় অংশগ্রহণ করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বিজেপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তার প্রয়াত সাবেক ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) চন্দ্রনাথ রাথের প্রবীণ মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

রাজনৈতিক জীবনের এক মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ করে জানা যায়, গত ৬ মে চন্দ্রনাথ রাথ আততায়ীর গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে, শুভেন্দু অধিকারী নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করার মাত্র দুদিন আগেই তার এই ঘনিষ্ঠ সহকারী ও পিএস সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। এবার সেই প্রয়াত সহকারীর স্মৃতি ও ত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে তার বৃদ্ধা মাকে আসনটিতে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের এই দুটি হাই-প্রোফাইল উপনির্বাচনের ফলাফল রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যতের মেরুকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা। (সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া)

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর