ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬৬ কেন্দ্রে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে ধানের শীষ টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব ঐক্য সরকার নাকি আবার নির্বাচন? ইসরায়েলের সামনে এখন ৩টি পথ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন আসামি হাজিরা ডিজিটাল করতে পারলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে: আইনমন্ত্রী ময়নাতদন্ত ছাড়া তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি সুইসাইড নয়, পরিকল্পিত হত্যাঃ পাইলট তাহসিফের বাবার বিস্ফোরক তথ্য পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ৩০০ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

হাফপ্যান্ট পরায় মেট্রোস্টেশনে ৪০ মিনিট আটকে রাখা হলো অ্যাথলেটকে


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:২৭ এএম

রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে শরীরচর্চা শেষে হাফপ্যান্ট ও টি-শার্ট পরায় সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ নামের এক অ্যাথলেট ও প্রশিক্ষককে প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রেখে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। মার্জিত পোশাক বা শালীনতার অজুহাত তুলে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে এভাবে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে মেট্রো কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাকে স্টেশনের গেট পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।


গত রোববার সকালে নিয়মিত শরীরচর্চা ও রানিং শেষে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে প্রবেশ করেন সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ। তিনি পেশায় একজন পেশাদার ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষক। প্রতিদিনের মতো সেদিনও শরীরচর্চার অংশ হিসেবে তার পরনে ছিল টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট। মেট্রোস্টেশনে টিকিট পাঞ্চ করে ভেতরে প্রবেশের ঠিক আগমুহূর্তে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য তার পথরোধ করেন। ওই পুলিশ সদস্য তার পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে মেট্রোর নিয়মের বাইরে বলে দাবি করেন এবং তাকে হাফপ্যান্ট পরিহার করে ‘শালীন পোশাক’ পরে যাতায়াত করার কথা বলেন।


ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন ওই পুলিশ সদস্যের কাছে জানতে চান—কোনটি শালীনতা আর কোনটি অশালীন, তার সুনির্দিষ্ট লিখিত নীতিমালা কোথায় আছে বা তা কি কোথাও টাঙানো আছে কি না। জবাবে ভিডিও ধারণরত ওই পুলিশ সদস্য দাবি করেন যে, শর্টস বা হাফপ্যান্ট পরা কোনোভাবেই শালীনতার পর্যায়ে পড়ে না। এভাবে দীর্ঘ প্রায় ৪০ মিনিট মেট্রোস্টেশনের পাঞ্চ মেশিনের সামনে তাকে জিম্মি বা আটকে রাখা হয়। কোনো সন্তোষজনক লিখিত নিয়মের ব্যত্যয় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি ট্রেন ধরার অনুমতি পান।


এই অপ্রত্যাশিত ও অপমানজনক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে একটি ভিডিওবার্তা ও দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, আমাদের মতো ক্রীড়াবিদ বা সাধারণ মানুষ আসলে এই দেশে থাকার যোগ্য নয়। বিষয়টি এমন নয় যে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল, বরং নানা মাত্রায় এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রায়ই মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময় পেশাদার সহ্যক্ষমতা বা চামড়া মোটা বলেই তা এড়িয়ে যেতে হয়। তিনি আরও জানান, দৌড়বিদ বা অ্যাথলেট হিসেবে শরীরচর্চার পর এই ধরনের পোশাকে যাতায়াত করাটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলেও কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট লিখিত নিষেধাজ্ঞা ছাড়া আইন প্রয়োগকারীদের এমন স্বেচ্ছাচারী আচরণ মোটেও কাম্য নয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপরিবহনে পোশাকের স্বাধীনতা ও শালীনতার নামে সাধারণ নাগরিক ও ক্রীড়াবিদদের এভাবে হেনস্তা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। মেট্রো রেলের মতো আধুনিক ও জনবহুল গণপরিবহনে এ ধরনের পুলিশি বাড়াবাড়ি ও অযৌক্তিক নৈতিকতা প্রদর্শনের সংস্কৃতি নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই ঘটনার পর সাধারণ নাগরিক ও ক্রীড়াগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এ ধরনের হয়রানিমূলক আচরণের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অ্যাথলেট বা সাধারণ নাগরিককে প্রকাশ্যে এমন অবমাননার শিকার হতে না হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর