জার্মানির রাজধানী বার্লিনভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক 'টাজ' (taz)-এর এক নারী সাংবাদিককে কাজের ভিসা না দেওয়া এবং দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ইসরায়েল সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সংবাদপত্রটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ বছর ধরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে প্রতিবেদন তৈরি করে আসা এবং ২০২৬ সালের জুন থেকে অফিসিয়াল প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত সাংবাদিক সেরেনা বিলানসেরির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।
সংবাদপত্রটি তাদের বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, "ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল্যবোধ থেকে সরে আসছে। সাধারণ অর্থে কেবল স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থাতেই এ ধরনের পদক্ষেপ দেখতে অভ্যস্ত আমরা।" 'টাজ'-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তেল আবিব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির নামে বিলানসেরির ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। তবে তাকে কোনো সুস্পষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি।
ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসরায়েলের জনসংখ্যা ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সেরেনা বিলানসেরির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে প্রকাশিত দুটি নিবন্ধে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন এবং গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিলানসেরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। তবে এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে 'টাজ' সম্পাদনা পর্ষদ এবং খোদ সাংবাদিক বিলানসেরি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "আমি কখনই ইসরায়েল বয়কটের কথা বলিনি। একজন সাংবাদিক হিসেবে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও গাজার মানবিক সংকট নিয়ে বৈধ সমালোচনা করা ও মতামত প্রকাশ করা আমার কাজের অংশ। যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোনো ‘ইসরায়েলবিরোধী’ ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করেননি, বরং সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিককে নিষিদ্ধ করেছেন।"
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের পর থেকে বিলানসেরিই প্রথম আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নন যিনি ইসরায়েলে প্রবেশে বাধার মুখে পড়েছেন। তাঁর আগে ফরাসি সাংবাদিক অ্যালিস ফ্রুসার্ড, স্প্যানিশ সাংবাদিক ক্বেরাল্ট ক্যাস্তিয়ো, ফরাসি ফটোসাংবাদিক ফ্রেডেরিক ল্য ব্রুন এবং ইতালীয় সাংবাদিক আলেকসান্দ্রো স্টেফানেল্লিকেও একইভাবে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। ইউরোপীয় ও জার্মান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে কথা বলতে জার্মান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।