কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন-ইরান উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়েই চলেছে। এবার দুটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল হামলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সাগরে তলিয়ে গেছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ। এর মধ্যে একটি কনটেইনারবাহী এবং অন্যটি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে অতীব গুরুত্ববহ এই জলসীমায় গত ১০ দিনে আকস্মিকভাবে সামরিক সংঘাত ও আক্রমণের তীব্রতা বহুগুণ বেড়েছে। মূলত গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দোবন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ ও নতুন করে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিলে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও তাদের পাল্টা হামলা জোরদার করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য ও বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামক একটি কনটেইনার জাহাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তীব্র আগুন ধরে যায়। ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই কন্টেইনার জাহাজটি একপর্যায়ে সাগরে তলিয়ে যায়। তবে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) নিশ্চিত করেছে, মঙ্গলবারের ওই হামলার পরও জাহাজে থাকা ২১ জন সেনাদলের সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং কেউ আহত হননি।
অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ‘কেপ দাও’ দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সাগরেই ডুবে গেছে। পূর্বের হামলায় একজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং বাকিদের উদ্ধার করা হয়েছিল। জাহাজটির সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিওনিস শিপম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উৎস সূত্রে জানা যায়, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট তিনটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে কূল হারিয়ে ডুবে গেছে। এর আগে মার্চ মাসে মাল্টার পতাকাবাহী ‘সাফিন প্রিস্টিজ’ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ প্রজেক্টাইল হামলায় সাগরে তলিয়ে যায় এবং এপ্রিলে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামের অপর একটি বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আটক করে নেয়।
(সূত্র: রয়টার্স)