বাংলাদেশের
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও নির্যাতন বন্ধে
দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ও যথাযথ পদক্ষেপ
গ্রহণ করবে বলে জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে
মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই কূটনৈতিক অবস্থান
তুলে ধরেন।
দৈনিক
ইত্তেফাকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দুর্গাপূজার প্রাক্কালে ‘বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ’-এর একটি বিবৃতির
প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক ভারতের
কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। ওই বিবৃতিতে দাবি
করা হয়েছিল যে, বিগত তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যাকাণ্ডসহ অন্তত ১৪১টি নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত
কাউকে এখনো আইনের আওতায় আনা বা গ্রেপ্তার করা
হয়নি।
সাংবাদিকদের
এই প্রশ্নের জবাবে অতীতে বা বর্তমানে ঘটে
যাওয়া যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের সরাসরি দোষারোপমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের পূর্ণ আশা রয়েছে যে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টিতে সংবেদনশীল
হয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উদ্যোগী হবে।’
একই
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতি এবং তাঁর পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের স্বরাষ্ট্রসচিবের অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রশ্নকর্তা স্মরণ করিয়ে দেন যে, এর আগে বিমসটেকের
চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সেখানে যাননি এবং এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
তবে
এই উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক অনুপস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন রণধীর জয়সোয়াল। তিনি মূলত সম্মেলনের সামগ্রিক সফলতা ও অগ্রগতির দিকটি
সামনে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন শেষে
গুরুত্বপূর্ণ ‘দিল্লি ঘোষণাপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে।
সম্মেলনে
সন্ত্রাসবাদ নির্মূল, মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার
এবং মাদক চোরাচালানের মতো গুরুতর আন্তসীমান্ত অপরাধগুলো যৌথভাবে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে বিমসটেকের সব সদস্যদেশ একমত
হয়েছে। আঞ্চলিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের
সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে রণধীর জয়সোয়াল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সামগ্রিক কাঠামোর
মধ্য দিয়ে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার
ক্ষেত্র আগামী দিনে আরও অনেক বেশি জোরদার হবে।