ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি ঘিরে তোলপাড়

পুলিশি হেফাজতে দীপকে, মুক্তি পেলেন নেহা


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:২৯ এএম

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে 'লেহরা দো তিরঙ্গা' প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) প্রধান নেহা বোরাকে দিল্লি পুলিশ দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখার পর শনিবার ভোরে মুক্তি দিয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করে এখনো পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবারই তাকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে তোলা হবে।

 

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার, যখন দিল্লির ঐতিহাসিক কনট প্লেস এলাকায় 'লেহরা দো তিরঙ্গা' শীর্ষক একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিল শুরুর আগেই আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নেহা বোরা এবং অভিজিৎ দীপকেসহ একাধিক প্রতিবাদকারীকে হেফাজতে নেয়। দীপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা মূলত শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা প্রতিরোধে প্রয়োগ করা হয়। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার অধীনে আনুষঙ্গিক ও আনুষ্ঠানিক নিয়ম সম্পন্ন করে নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এই আইনি প্রক্রিয়া এবং গ্রেপ্তারের ধরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিজেপির আইনি বিভাগ। দলের আইনি প্রধান রত্না সিং অভিযোগ করেন যে, গ্রেপ্তার করার পর থেকে দীপকের অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে এবং তার আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তা প্রকাশ করে রত্না লেখেন, অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আজই তাকে এসইএম আদালতে হাজির করা হবে। কিন্তু তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ পরিষ্কার করে কিছু বলছে না এবং আইনজীবীদের সঙ্গে তার যোগাযোগও করতে দেওয়া হচ্ছে না।

 

পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন স্টুডেন্ট নেত্রী নেহা বোরা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট আইনগত কারণ ছাড়াই প্রতিবাদীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা থানায় আটকে রাখা হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সাধারণ মানুষের মনে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করাই এই ধরনের পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

 

নেহা বোরা বলেন, এই দেশে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই মানুষকে ধরে নিয়ে আটকে রাখা এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে বসিয়ে রাখা এখন একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান আন্দোলনের সময় প্রতিদিন যেভাবে প্রতিবাদীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে বিষয়টি স্পষ্ট যে এর পেছনে একটি পরিকল্পিত উদ্দেশ্য রয়েছে। ধরে নিয়ে রাতভর আটকে রাখার পর পরদিন সকালে বা বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজে এই বেআইনি আটকের ঘটনার ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ নাগরিকদের ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করাই পুলিশের প্রধান কৌশল।

 

আটক অন্য সহযোদ্ধাদের সমর্থনে নেহা বোরা জোর দাবি জানান যে, অভিজিৎ দীপকেসহ অন্যায়ভাবে আটকে রাখা প্রতিটি প্রতিবাদকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, নাগরিকরা কেবল নিজেদের ভোট দেওয়ার অধিকার ও সরকারের জবাবদিহিতা চাইছিলেন। কোনো অরাজকতা না করা সত্ত্বেও সাধারণ নাগরিকদের এভাবে সারারাত থানায় আটকে রাখার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর