ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মামার বাড়িতে গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে আক্রান্ত পিতাকে বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই সহোদর ভাইয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তাঁদের বাবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আইয়ুব আলীর বসতঘরের পূর্ব পাশের বাগানে এই মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুই ভাই হলেন—ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম (৪০) ও তাঁর ছোট ভাই মো. রাকিব (৩০)। নিহতদের বাবার নাম আলম বক্তার, যিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে মামা মো. আইয়ুব আলীর বাড়ির বাগানে গাছ কাটার কাজ করছিলেন আলম বক্তার এবং তাঁর দুই ছেলে রহিম ও রাকিব। কাজের একপর্যায়ে দুই ভাই গাছের ওপরে উঠে ডালপালা ও গুঁড়ি কাটছিলেন এবং বাবা আলম বক্তার নিচে পড়ে থাকা গাছের কাটা ডালপালা পরিষ্কার করছিলেন।
এ সময় কোনোভাবে অসাবধানতাবশত গাছের নিচে থাকা বাবা আলম বক্তার হঠাৎ বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েন। বিষয়টি গাছের ওপর থেকে দেখতে পেয়ে ছোট ছেলে রাকিব দ্রুত গাছ থেকে নিচে নেমে এসে বিদ্যুতায়িত বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান এবং স্পর্শ করা মাত্রই নিজেও বিদ্যুৎস্পর্শে মারাত্মকভাবে জড়িয়ে পড়েন। এদিকে গাছে থাকা বড় ভাই রহিম নিচে বাবাকে ও ছোট ভাইকে ছটফট করতে দেখে তড়িঘড়ি করে নিচে নেমে আসেন এবং তাঁদের রক্ষা করার আকুল চেষ্টা চালাতে গিয়ে তিনিও একইভাবে বিদ্যুৎস্পর্শে আক্রান্ত হন।
ঘটনার একপর্যায়ে আশপাশের প্রতিবেশীরা দৃশ্যটি দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁদের তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্মরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই ভাই রহিম ও রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে আশঙ্কাজনক ও আহত অবস্থায় একই হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন বাবা আলম বক্তার।
বিদ্যুৎস্পর্শে দুই ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাব আলী গণমাধ্যমকে জানান, মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েই থানা পুলিশের একটি টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে। বর্তমানে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।