উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত নতুন সীমান্ত সেতু পার হয়ে চীনের সীমান্ত শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে, শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) তিনি চীন সফরে যান। সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁর এই ঐতিহাসিক সফর অনুষ্ঠিত হলো। দানদং শহরে কিম জং উনের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং সাক্ষাৎ করেছেন বলে দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
‘আল জাজিরা’-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই চার লেনের সেতুর নির্মাণকাজ ২০১৪ সালেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে এতদিন প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক এবং শুল্ক সংক্রান্ত পর্যাপ্ত অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকায় সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন এই সংযোগের ফলে এখন দিনরাত টানা কনটেইনার ও ভারী পণ্যবাহী যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। ফলে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় মিত্রতা আরও মজবুত করতে চাইছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা। চীন শুরু থেকেই পিয়ংইয়ংয়ের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অভিভাবক। অন্যদিকে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর সঙ্গেও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের 'বিজয় দিবসের ৮০তম বার্ষিকী' উদযাপনে অংশ নিতে চীন সফর করেছিলেন কিম জং উন। পরবর্তীতে চলতি বছরের জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। সে সময় বাণিজ্য, কৃষি, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়।