আহসান সাকিব হাসান / : 36
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশুকন্যা কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের দোতলা বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার তার ভিটার মাটি পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাচ্ছে ক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুর ও মাটি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে পুরো বসতভিটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ভাঙচুর কাজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত চলতে দেখা যায়। দোতলা বাড়িটির ইট, বালু, এমনকি মাটির নিচের ফাউন্ডেশনের রড পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বসতবাড়ির কোনো অস্তিত্ব নেই। মাটি কেটে জায়গাটিকে পুকুরে পরিণত করছেন উত্তেজিত এলাকাবাসী।
মাটি কাটার কাজে যুক্ত সলিম প্রামানিক ও রুবেল হাসান নামের দুই স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ধর্ষক ও খুনি মোস্তফার পাপের দৃষ্টান্তমূলক পরিণতি হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলে জায়গাটিতে পুকুর বানিয়ে রাখা হবে, যেন ভবিষ্যতে অন্য কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করতে সাহস না পায়।
এদিকে অপরাধীর বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর পরিবার ও স্বজনেরা।
নিহত শিশু কলির দাদা আব্দুস সোবহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।" স্বজন রমজান আলী দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগপত্র বিলম্বের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, "মামলার অগ্রগতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ইতিমধ্যে হাসপাতালে এসেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।"
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। দীর্ঘ সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে মোস্তফা স্বীকার করেছে যে, মাগরিবের পর নিজের দোকানের পেছনের কক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং লাশ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।