ভালোবাসা প্রকাশ করার কত শত সুন্দর মাধ্যমই না রয়েছে। প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরে একটু উষ্ণতা দেওয়ার মতো সাধারণ ও রোমান্টিক দৃশ্য সচরাচরই দেখা যায়। কিন্তু এমন একটি সহজ ও ভালোবাসার আলিঙ্গনও যে কোনো মানুষের জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। সম্প্রতি এমনই এক অদ্ভুত ও রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে গেছে চীনে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিংসি লাইভ’-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, শীত লাগার কথা জানিয়ে স্ত্রীকে একটু উষ্ণতা দিতে ভালোবাসার আবহে আলতো করে জড়িয়ে ধরেছিলেন ‘ওয়াং’ পদবির এক ব্যক্তি। কিন্তু সেই আলিঙ্গনের মুহূর্তেই হাড় ভেঙে যাওয়ার বিকট শব্দ শুনতে পান তিনি। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শারীরিক এই তীব্র যন্ত্রণায় কাতর হয়ে স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্বামী ওয়াং দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের অতিরিক্ত বা পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করেননি; বরং স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি যে এতখানি গুরুতর রূপ নিতে পারে, তা ওই দম্পতির কল্পনার বাইরে ছিল। ঘটনার পর সারা রাত অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করে পরদিন সকালে তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেখানে বুকে সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকেরা অবাক হয়ে দেখতে পান যে, ওই নারীর পাঁচটি পাঁজর ভেঙে গেছে এবং ষষ্ঠ পাঁজরেও মারাত্মক ফাটল বা হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার ধরেছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বামী ওয়াং জানান, তার স্ত্রীর হাড় এত বেশি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো তীব্র ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড়ক্ষয় রোগ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ কেজি ওজনের ওই নারী মাত্রাতিরিক্ত ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং প্রায়ই রাতের প্রধান খাবার বাদ দিতেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি কখনো রোদে বা সূর্যালোকের সংস্পর্শেও আসতেন না বললেই চলে। বাসা থেকে মাত্র দুই-तीन মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত পারিবারিক একটি দোকানেই তার দৈনন্দিন জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটত।
চীনের উহান এশিয়া হার্ট জেনারেল হাসপাতালের বিশিষ্ট অস্থিশল্য বিশেষজ্ঞ বা অর্থোপেডিক ফিজিশিয়ান ‘ইয়ান ইয়ানসিয়াং’ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, সাধারণত তরুণ বয়সে কেবল সাধারণ একটি আলিঙ্গনের চাপে পাঁজর ভেঙে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। মূলত ব্যক্তির দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিহীনতা এবং রোদহীন জীবনযাত্রার সঙ্গেই হাড়ের এই অস্বাভাবিক দুর্বলতার গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে জানান, পাঁজরের এই ধরনের মারাত্মক ভাঙনে যদি ফুসফুস বা ফুসফুসের পর্দায় কোনো অভ্যন্তরীণ জটিলতা তৈরি না হয়, তবে সচরাচর বড় ধরনের কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। সেই চিকিৎসাগত দিক বিবেচনা করেই চিকিৎসকেরা ওই নারীকে কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই বিশেষ ওষুধ, থেরাপিউটিক প্যাচ এবং কঠোর শারীরিক বিশ্রামের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। ভালোবাসার একটি ছোট মুহূর্ত কীভাবে অবহেলা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে দুঃস্বপ্নে রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক অদ্ভুত ও মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে রইল।