কুমিল্লা প্রতিনিধি
দেয়ালে সাজানো দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র আর মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অস্ত্র তৈরির নানা সরঞ্জাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ্যে এসব অস্ত্র তৈরির ভিডিও প্রচার করার পাশাপাশি চলত বিক্রির জমজমাট বিজ্ঞাপন। এরপর আগ্রহী ক্রেতাদের খোঁজ পেয়ে ‘বন্দুক’ নামের একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে চলত তথ্য আদান-প্রদান এবং অস্ত্র বেচাকেনার যাবতীয় দরদাম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এমন সব সূত্র ধরে নিখুঁত ছকে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার ইছাপুর গ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র কারখানার মূলহোতা আবু মোহাম্মদ তৌকির নেওয়াজ আসিফকে আটক করেছে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন)-কুমিল্লা।
অভিযান পরিচালনাকারী এসআরবি-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির আগ্নেয়াস্ত্রের প্রতি একধরনের অস্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল। এই নেশার বশবর্তী হয়েই তিনি বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্র কেনাবেচার বিষয়ে কথাবার্তা বলতেন।
এসআরবির দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে ওই কারখানাটিতে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করা হতো। উৎপাদিত এসব অবৈধ অস্ত্র পরবর্তীতে স্থানীয় কিশোর গ্যাংসহ দেশের বিভিন্ন দুষ্কৃতকারী চক্রের হাতে চড়া দামে পৌঁছে দেওয়া হতো। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমাইয়ের ইছাপুর ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শান্ত গ্রামের বুকে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের মানসম্মান দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি জোরালো দাবি জানাই, এই দৃষ্টান্তমূলক ঘটনার মাধ্যমে অন্যরা যেন শিক্ষা নিয়ে সচেতন হয় এবং আমাদের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ কবল থেকে মুক্তি পায়।’
এদিকে, আটক আসিফের সঙ্গে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অপরাধী চক্রের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।