মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও একক তৎপরতায় রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনীয় শহর ওলেশকিতে বিশেষ মানবিক যুদ্ধবিরতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে কিয়েভ ও মস্কো। একই সাথে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে আবারও তিন দেশীয় (ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র) উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
উভয় দেশের সামরিক প্রধান ও প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে অবরুদ্ধ ওলেশকি শহরে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত তথ্য মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ ও সংকটাপন্ন ওলেশকি শহরে দ্রুত জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, বিপজ্জনক মাইনমুক্ত করা এবং সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মানবিক তাগিদেই উভয় পক্ষ সমস্ত সামরিক কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, চার বছর আগের ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনার পূর্বে প্রায় ২৪ হাজার জনসংখ্যার এই সুপরিচিত শহরটিতে বর্তমানে মাত্র ১৭০০ থেকে ২০০০ জন প্রবীণ ও অসুস্থ বাসিন্দা আটকা পড়ে আছেন, যারা বর্তমানে তীব্র খাদ্য, পানীয় ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সংকটে মানবিক বিপর্যস্ততার মধ্যে ভুগছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির পেছনে পটভূমি হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
ইউক্রেনীয় অপহৃত শিশুদের তাদের মূল পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার পূর্ববর্তী উদ্যোগের পাশাপাশি এই জরুরি মানবিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতেও তার সক্রিয় সামাজিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এর আগে রোমান ক্যাথলিক চার্চের পোপ লিও নিজেও শহরটির করুণ ও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে সরাসরি কথা বলেছিলেন।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে নভেম্বরের প্রথমার্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে কৌশলগত ও কারিগরি পর্যায়ের বিশেষ বৈঠকে বসবেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ইউরোপের সুইজারল্যান্ডেও সম্প্রসারিত হতে পারে।
তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে যেকোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান এবং আগামী ১০ বছরের জন্য ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সামরিক তহবিলের পূর্বশর্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
এদিকে নতুন এই শান্তি উদ্যোগের সরাসরি অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইউক্রেন ও রাশিয়া প্রত্যেকে ২৭০ জন করে মোট ৫১৪ জন বন্দি সেনা সদস্যকে সফলভাবে বিনিময় করেছে। ইউক্রেনীয় প্রসিকিউটর প্রধানের কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে, দীর্ঘ চার বছরের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৯ হাজারের বেশি সাধারণ বেসামরিক ইউক্রেনীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুঃখজনকভাবে ৭৬২ জন কোমলমতি শিশু রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স