পাবনা সদর উপজেলায় ধর্মীয় শিক্ষার পবিত্রতার আড়ালে এক নিকৃষ্ট ও পৈশাচিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক লম্পট মাদ্রাসাশিক্ষক। আবাসিক প্রতিষ্ঠানের এক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে চেতনানাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে একাধিকবার ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও ন্যক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নিজের কুকর্মের শারীরিক ও জৈবিক প্রভাব গোপন রাখতে ভুক্তভোগী অসহায় ছাত্রীকে জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবন করানোর মতো অমানবিক তথ্যও বেরিয়ে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে ইতিমধ্যেই পাবনা সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে। শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী একটি ভিডিও বার্তায় তার ওপর চলা দীর্ঘদিনের বর্বরোচিত নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে তাকে নিয়মিত চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে আসতেন এবং তার অবর্তমানে নানা কুৎসিত কার্যকলাপে লিপ্ত হতেন। পরবর্তীতে শারীরিক প্রতিক্রিয়া বা গর্ভধারণের ঝুঁকি এড়াতে তাকে জোরজবরদস্তি করে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়াতে বাধ্য করা হতো। শুধু ওই শিক্ষার্থীই নয়, ওই মাদ্রাসার আরও একাধিক ছাত্রীর সঙ্গেও শিক্ষক আবু ইউসুফ একই ধরনের পৈশাচিক ও অনৈতিক আচরণ করতেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী। এ ছাড়া বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জীবননাশের মারাত্মক হুমকি দেওয়া হতো বলেও সে জানায়।
ঘটনার রাতে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে লম্পট শিক্ষক পুনরায় ভুক্তভোগীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ওই সময় বুদ্ধিমত্তা ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো রকমে পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এরপর মুহূর্তের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মাদ্রাসা ভবনটি ঘেরাও করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফকে হাতেনাতে আটক করে রাখেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিজেদের কঠোর হেফাজতে নেয়। তবে এই ঘৃণ্য ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বিচার দাবিতে ওই মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতির অবনতি রোধে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।