ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

কক্সবাজার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড:

ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত ১০ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

১০ দিন পর মিলল শিক্ষিকা মুক্তার দেহাবশেষ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:৩৫ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ার পর্যটন এলাকা ইনানীতে অবস্থিত রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শোকের মাত্রা আরও ঘনীভূত হয়েছে। টানা ১০ দিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দুর্ঘটনাস্থলের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে এক স্কুলশিক্ষিকার দেহাবশেষ। এর মাধ্যমে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অসীম কান্নার মাঝে শনাক্ত হওয়া নিহতদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টের’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসস্তূপ থেকে টানা ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক ঘণ্টার জোরালো তল্লাশি শেষে তা উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষটি অনেকটা কঙ্কালসদৃশ হয়ে পড়েছিল। তবে গলায় থাকা বিশেষ লকেট দেখে নিখোঁজ স্ত্রীকে শনাক্ত করেন তাঁর স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। এই দেহাবশেষ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে ওই রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়াল।


এর আগে মঙ্গলবার সকালেই সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোমবার রাতে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নমুনা পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় মিললেও নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার স্বজনদের দেওয়া নমুনার সাথে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর সন্ধান নিয়ে স্বজনদের মাঝে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর পরদিনই মঙ্গলবার সকাল থেকে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পুড়ে যাওয়া ওই রিসোর্টের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে, পাশের নালা ও ঝোপঝাড়ে নতুন করে ব্যাপকভাবে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে উখিয়া থানা পুলিশ।


নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে তাঁরা উঠেছিলেন ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে। মুক্তার স্বামী ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ফয়সাল দেওয়ান জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন এবং মুক্তা তখন কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। দুই বান্ধবী বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ভেতরে আটকে পড়ে মুক্তার আর বের হওয়া হয়নি। অবশেষে ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের গলার লকেট দেখে তিনি স্ত্রীর দেহাবশেষ নিশ্চিত করেন।


একই দিনে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় মিল পাওয়া আগের ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের হিমঘর থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।


নিহত এই ১০ জনের মধ্যে ঢাকার দুটি আলাদা পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। এর মধ্যে শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬) একই পরিবারের চারজন।


অন্য পরিবারের ছয় সদস্য হলেন—মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তাঁরা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নিহত নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়া মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। সিআইডির নিখুঁত ডিএনএ পরীক্ষার পরই এই হৃদয়বিদারক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর