পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবার তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ উদ্যোগের কারণে। কিরগিজস্তান সফর থেকে পাওয়া মূল্যবান এক কেজি স্বর্ণসহ ডজনের পর ডজন রাষ্ট্রীয় উপহার তোশাখানায় জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। নতুন কঠোর বিধিমালা অনুযায়ী এই সোনাসহ সমস্ত উপহার উন্মুক্ত নিলামে তোলা হবে। আর এই নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি ব্যয় করা হবে সুবিধাবঞ্চিত কন্যাশিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ও গালফ নিউজের প্রকাশিত নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কিরগিজস্তান সফরে উপহার হিসেবে পাওয়া এক কেজি খাঁটি স্বর্ণসহ তিন ডজনের বেশি সরকারি উপহার তোশাখানায় জমা দিয়েছেন। নতুন সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, এসব উপহার উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রির অর্থ ব্যয় করা হবে দেশটির অনগ্রসর এলাকাগুলোর মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে।
ক্যাবিনেট ডিভিশনের প্রকাশিত নথির বরাতে জানা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে পাওয়া এসব সরকারি উপহার তোশাখানায় জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার ছিল এক হাজার গ্রাম বা এক কেজি খাঁটি সোনাভর্তি একটি বিশেষ বাক্স। ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিরগিজস্তানে সরকারি সফরের সময় তিনি এটি উপহার পান এবং ৮ সেপ্টেম্বর সোনাটি তোশাখানায় জমা দেন। তবে এই মূল্যবান উপহারগুলোর সঠিক মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জমা দেওয়া অন্যান্য উপহারের মধ্যে রয়েছে হাতে তৈরি রেশম ও উলের কার্পেট, ফুলদানি, সাজসজ্জার প্লেট, কাফলিংক, টাই, ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম ও ঐতিহ্যবাহী স্মারকসামগ্রী। এ ছাড়া ছিল রওজা-এ-রাসুলের (সা.) মডেল, তসবিহ, মডেল গাড়ি, কিরগিজ ধাঁচের কম্বল, ক্রিস্টালের ঢাল, ব্রোঞ্জের ফুলদানি, টেবিল ঘড়ি, বই, সুগন্ধি, অলিভ অয়েল, সাবান, স্কার্ফ এবং কাপ ও সসারের সেট।
একই সময়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সাতটি উপহার তোশাখানায় জমা দেন। এসব উপহারের মধ্যে ছিল কার্পেট, তিরন্দাজির সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র, ফয়সাল মসজিদের বাঁধানো ছবি, দাবার সেট ও সাজসজ্জার সামগ্রী। পাশাপাশি উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ও তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারসহ মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যও ওই সময়ে পাওয়া রাষ্ট্রীয় উপহার জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তোশাখানা হলো পাকিস্তানের সরকারি উপহার সংরক্ষণাগার, যেখানে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া উপহারের নথি সংরক্ষণ করা হয়। নতুন ‘তোশাখানা (ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, পুরোনো ও নতুন সব উপহার উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। ক্যাবিনেট ডিভিশন এই পুরো নিলাম প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।
সূত্র: দ্য নিউজ, গালফ নিউজ