ইসরায়েলের রাজনীতিতে ফের অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে স্থায়ী সমাধানের আশা নিয়ে ভোটাররা কেন্দ্রে গেলেও, বুথফেরত জরিপ এক অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী শিবিরের লড়াইয়ে তৈরি হয়েছে চরম সমীকরণ। দীর্ঘ ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও, চূড়ান্ত ফলাফল কার পক্ষে যাবে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।
ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো পক্ষেরই স্পষ্ট জয় নিশ্চিত হয়নি। আলজাজিরার প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট এবং প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। দুই পক্ষই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটেরই নেই।
জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৮টি আসন পেতে পারে। চার বছর আগের নির্বাচনের তুলনায় এটি তাদের একটি অত্যন্ত ভালো ফল। ফলে আগামী দিনে সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে আরব দলগুলোর এই আসনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। বিগত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের এই আগ্রহ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি, দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এবং জয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু।
বুথফেরত জরিপের এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরই নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।
সূত্র: আলজাজিরা