মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের খেসারত দিয়ে চার দিনেই বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। মেঘ ও বৃষ্টির লুকোচুরির খেলায় ভরা এই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই শোচনীয় হারে টাইগার শিবির বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ল। Saturday (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ম্যাচের চতুর্থ দিনেই ক্যারিবীয়রা জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতা প্রকট হয়ে ওঠে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ২৭২ রানের পুঁজি গড়তে সমর্থ হয়। তবে বোলিংয়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নাঈম হাসানরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড হাতে পায়। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আরও বড় ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। লোয়ার অর্ডারে নাঈম হাসানের ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিতে (৫২ রান) ভর করে কোনোমতে ১৪২ রানে থামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে ক্যারিবীয়দের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান।
স্বল্প পুঁজি নিয়ে চতুর্থ ইনিংসে বোলিংয়ে নেমে কাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত উইকেটের বিকল্প না থাকলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং জুটি ১১২ রানের বড় জুটি গড়ে ম্যাচ স্বাগতিকদের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। ২১তম ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে জন ক্যাম্পবেল (৪৯) বোল্ড হয়ে ফিরলে ভাঙে এই ওপেনিং জুটি। এরপর ব্র্যান্ডন কিং ৬১ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পথে ৪৪ রানে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে জীবন পান; ওই ক্যাচ মিসের মাশুল দলকে দ্রুতই দিতে হয়। ফিল্ডিংয়ের সময় শান্ত আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে কিছুক্ষণ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৮ রান ব্যবধানে তাইজুলের বলে তেজনারায়ণ চন্দরপল (১) হাসান মাহমুদের ক্যাচে আউট হলেও পরাজয় এড়ানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে ৩৬তম ওভারের প্রথম বলে দলের জয় নিশ্চিত করেন ব্র্যান্ডন কিং। তিনি ১১৫ বলে ৮১ রান এবং হজ ২৭ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থেকে ৩৬.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৭০ রান করে ক্যারিবীয়দের জয় এনে দেন। এর আগে সকালে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল।