ক্রীড়া
ডেস্ক
মিরপুর
টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বল হাতে
দুর্দান্ত কামব্যাক করেছে বাংলাদেশ দল। নতুন বল
নেওয়ার প্রচলিত সুযোগ থাকলেও তার ওপর ভরসা
না রেখে পুরোনো বলেই
নাঈম হাসান ও মেহেদি হাসান
মিরাজের স্পিন ঘূর্ণির ওপর পূর্ণ আস্থা
রাখেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের এই আস্থার পূর্ণ
প্রতিদান দিয়ে অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস মাত্র ২৪৫ রানে গুঁড়িয়ে
দিয়েছেন স্পিনাররা। এর ফলে প্রথম
ইনিংস শেষে গুরুত্বপূর্ণ ২৭
রানের অমূল্য লিড পেয়েছে স্বাগতিক
বাংলাদেশ।
ম্যাচের
প্রথম সেশনের শেষ দিকে ওয়েস্ট
ইন্ডিজের ব্যাটিং যেভাবে এগোচ্ছিল, তাতে তাদের বড়
লিড পাওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছিল।
প্রথম সেশন শেষে উইন্ডিজদের
সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে
২১৩ রান। শেষ পর্যন্ত
দলের অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৬০ বলে
৫টি চারের সাহায্যে ৪৩ রানে অপরাজিত
থাকলেও অন্যপ্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিলে
অংশ নেন বাকি ব্যাটাররা।
ফলে ক্যারিবীয়দের ইনিংস ২৪৫ রানের বেশিদূর
এগোতে পারেনি।
এর
আগে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে লড়াই করে
বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে
অলআউট হওয়ার আগে সংগ্রহ করেছিল
২৭২ রান। এরপর ব্যাটিংয়ে
নেমে ক্যারিবীয় ওপেনাররা শুরু থেকেই দারুণ
গতিতে রান তুলতে থাকেন।
জন ক্যাম্পবেল দু’বার জীবন
পাওয়ার সুযোগ পেলেও পরবর্তীতে তাকে বেশি দূর
এগোতে দেননি মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি ৭৮ বলে
৬টি চার ও ২টি
ছক্কার সাহায্যে ৫৪ রানের চমৎকার
একটি ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন।
আর আগের দিন অপরাজিত
থাকা তেজনারায়ণ চন্দরপলও দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই নিজের হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন।
দীর্ঘ
১৮৪ বল মোকাবিলা করে
৬টি চার ও ১টি
ছক্কার সাহায্যে ৫৬ রানের ধৈর্যশীল
ইনিংস খেলার পর চন্দরপলকে স্লিপে
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান পেসার শরিফুল ইসলাম। এর আগে তিনি
জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে চমৎকার জুটিতে দলের পক্ষে মূল্যবান
রান যোগ করেন। জাস্টিন
গ্রিভসও একবার জীবন পেয়েছিলেন, কারণ
স্লিপে মুমিনুল হক তার একটি
সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন। তবে
পরে নাঈমের দুর্দান্ত অফসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ১০৩ বলে
২ চারে ৪৬ রান
করে তাঁকে ফিরে যেতে হয়।
দুপুরের
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে খেলার দৃশ্যপট
সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। বাংলাদেশ অধিনায়ক এ সময় বেশিরভাগ
ওভারই করান দুই অভিজ্ঞ
অফস্পিনার নাঈম ও মিরাজকে
দিয়ে। এই জুটি একে
একে প্রতিপক্ষের বাকি ৪ উইকেট
দ্রুত তুলে নেন। অভিষিক্ত
ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ ক্রিজে নেমেই
পরপর তিনটি চার মেরে নিজেদের
আগ্রাসী মনোভাবের জানান দিলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ১৫ রান করে
তিনি মিরাজের বলে দারুণ স্টাম্পিংয়ের
শিকার হন। এরপর একে
একে শামার জোসেফকে ৪ রানে উইকেটকিপার
লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করেন নাঈম। একই
ওভারে জোমেল ওয়ারিকানকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ এবং
জেইডেন সিলসকে শূন্য রানে মিরাজের ক্যাচ
বানিয়ে ইনিংসে নিজের চতুর্থ শিকার পূর্ণ করেন এই অফস্পিনার।
উল্লেখ্য,
এই চার উইকেট শিকারের
মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম (বলের
হিসেবে) ৫০ উইকেট নেওয়ার
এক দারুণ মাইলফলক ও রেকর্ড গড়েছেন
২৬ বছর বয়সী নাঈম
হাসান। এই ঐতিহাসিক রেকর্ড
গড়তে তার মোট লেগেছে
২৮৫৬ বল।
সব
মিলিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাঈম হাসান ৪টি
উইকেট শিকার করে সবচেয়ে সফল
বোলার ছিলেন। এছাড়া মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম
প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট
লাভ করেন। অন্যদিকে, পেসার হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম
১টি করে উইকেট নিজেদের
ঝুলিতে ভরেন।
আকাশজমিন
/ আরআর