ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়ায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ২০০ উইকেটের মালিক রশিদ খান আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা, জাকের-নাঈমের ব্যাটে বাংলাদেশের লিড ১০৬ টুঙ্গিপাড়ায় কলেজের মালামাল চুরি: ধরা পড়লেন ছাত্রদল সভাপতি সাহেদ মাথায় আঘাত পেয়ে টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন মুমিনুল ভারতের লক্ষ্ণৌতে একই পরিবারের তিনজনকে গুলি করে হত্যা ইতিহাসের বৃহত্তম ক্রিপ্টো হ্যাক: বিন্যান্স থেকে খোয়া গেল ৬৩০০ কোটি ডলার ভারতে বিক্রি হওয়া ৬ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই পাচারকারী এইচএসসি ফলের তারিখ বারবার পরিবর্তন: শিক্ষা বোর্ডের চরম সমন্বয়হীনতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ: সৌদির বিপক্ষে হুথিদের গোপনে সহায়তা করছে ইউএই

মামলা নিয়ে ভাবছি না, সরকারের নিজস্ব আইনে তদন্ত চাই: তাহসিফের বাবা


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৩:০৪ পিএম

বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় অব্যাহত রয়েছে। পুত্রের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে প্রচলিত মামলার মারপ্যাঁচ বা আইনি জটিলতার কথা না ভেবে, সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে ও আইনি প্রক্রিয়ায় এই মৃত্যুর পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।


শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় শোকার্ত পিতা কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমরা পারিবারিকভাবে এখনো কোনো ধরনের মামলা করার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিইনি। মামলা করব কি না, সে বিষয়েও আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। আজ আমাদের নানা ব্যস্ততা রয়েছে। হয়তো আজ এ বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। তবে আমরা স্পষ্টভাবে চাই, থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ বা দুই কলম কী লিখলাম বা না লিখলাম, সেটির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিজস্ব আইনগত বিধান অনুযায়ী সমগ্র বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক।’


তিনি আরও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে দেশের একজন সচেতন সুনাগরিক ছিল, পাশাপাশি সে সশস্ত্র বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্যও ছিল। তার এই ধরনের অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর যেন একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হয় এবং এর নেপথ্যের প্রকৃত কারণটি জাতির সামনে উন্মোচিত হয়। আমরা পৃথকভাবে মামলা করছি কি না, সেটির দিকে নজর না দিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনী যেন সার্বিক বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকৃত সত্য বের করে আনে।’


এদিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব গণমাধ্যমকে জানান, তিনি নিহত তাহসিফ সৌরির বাবাকে ফোন করে থানায় এসে লিখিত মামলা দায়ের করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তিনি এখনো থানায় উপস্থিত হননি। তিনি থানায় আসার পর নিয়ম অনুযায়ী থানায় মামলা দায়ের করা হবে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান যে, এখন পর্যন্ত তাদের থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত রয়েছে।


অন্যদিকে, তাহসিফের এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ ‘জুনিয়র বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে টানা প্রায় ছয় ঘণ্টা তাহসিফের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন এই দীপ।


গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় দীপকে পিবিআইয়ের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সঙ্গে নিয়ে গেছেন। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলার বাসা থেকে দীপকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের হেফাজতে নেয়। দীপ ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।


নিখোঁজ হওয়ার আগের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক যুবকের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, যাকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন। ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে ওই যুবকের দেখা হয়। সে সময় তারা কুশল বিনিময়ের অংশ হিসেবে পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান এবং পরবর্তীতে দুটি পৃথক মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলে যান।


পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ফোনের আহ্বানে সাড়া দিয়েই তাহসিফ সেদিন বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীপ তাদের জানিয়েছিলেন যে, তাহসিফের মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা সেটি ঠিক করতে একটি স্থানীয় ওয়ার্কশপে যান। মোটরসাইকেল মেরামত সম্পন্ন হওয়ার পর তারা বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান এবং এরপর দীপ সেখান থেকে চলে যান বলে পরিবারের সদস্যদের জানান। তবে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের মতো রোমহর্ষক ঘটনার সঙ্গে দীপের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।


উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভেসে থাকার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করেন। নিহতের হাতের ঘড়ি এবং পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মৃতদেহটি নিখোঁজ তাহসিফের বলে নিশ্চিত করেন তার স্বজনেরা।


পরের দিন বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর বিকেল সাড়ে চারটা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।


তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা পেছনের রহস্য এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নিহতের বাবা শুরু থেকেই ছেলের মৃত্যু নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। মৃত্যুর আসল কারণ এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও কোনো ধরনের অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে শোকার্ত পরিবার ও দেশবাসী।


এ সম্পর্কিত আরো খবর