ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে আরও একটি অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন আফগানিস্তানের বিশ্বসেরা লেগস্পিনার রশিদ খান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নেমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অনন্য ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার গৌরব অর্জন করলেন ২৮ বছর বয়সী এই আফগান তারকা।
ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাটিং করা জিম্বাবুয়েকে রান তাড়া করার সুযোগ দিয়ে দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণ চালায় আফগানিস্তান। নির্ধারিত চার ওভারের স্পেলে মাত্র ২৯ রান খরচ করে ১টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন রশিদ খান। আর এই একটি উইকেট শিকার করার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট মিলিয়ে প্রথম বোলার হিসেবে দুইশ উইকেটের চূড়ায় নাম লেখান তিনি।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের নবম ওভারে প্রতিপক্ষের ওপেনার ও উইকেটকিপার ব্যাটার তাদিনওয়ানাশে মারুমানিকে নিখুঁত এক এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের ইতিহাসের পাতায় কাঙ্ক্ষিত এই মাইলফলকটি স্পর্শ করেন রশিদ। নিজের ক্যারিয়ারের ১২০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই এই অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন এই স্পিন জাদুকর। অসাধারণ বোলিং গড় এবং কৃপণ ইকোনমির সুবাদেই মূলত ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে তিনি নিজেকে অপ্রতিরোধ্য এক বোলারে পরিণত করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র ১৩.৯৬ গড়ে এবং অবিশ্বাস্য ৬.১৩ ইকোনমি রেট বজায় রেখেই রশিদ খান এই ঐতিহাসিক রেকর্ড নিজের নামের পাশে যুক্ত করলেন।
এর আগে গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার টিম সাউদির রেকর্ড টপকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির মুকুট নিজের মাথায় পরেছিলেন রশিদ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রেকর্ডগুলোকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক ছাড়িয়ে এই ফরম্যাটের সর্বকালের শীর্ষ উইকেটশিকারি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন এই স্পিনার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মারুমানিকে আউট করে পাওয়া এই উইকেটটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এশিয়ার মাটিতে তাঁর দেড়শতম বা ১৫০তম শিকার হিসেবেও যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠেই তিনি ঝুলিতে পুরেছেন ৭৯টি উইকেট।
উল্লেখ্য, সুদূর ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে এই জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল রশিদ খানের। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই খেলতে নেমে তিনি ইতিহাসের এই সোনালী মাইলফলক স্পর্শ করলেন। ক্রিকেটের ছোট সংস্করণে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ও কার্যকরী বোলার হিসেবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চলেছেন রশিদ। তাঁর এই অবিস্মরণীয় কীর্তিতে পুরো আফগানিস্তানসহ বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনে আনন্দের জোয়ার বইছে।