মোঃ হোসাইন আলী কাজী, আমতলী-বরগুনা
একটিমাত্র টেকসই সেতুর অভাবে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ, আর উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এই দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এবং বরগুনার আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া নদীর খেকুয়ানী বাজার সংলগ্ন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে একটি নতুন গাডার সেতু নির্মাণের জোরালো দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ।
মোঃ হোসাইন আলী কাজী, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমতলী উপজেলার খেকুয়ানী বাজারে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে অন্তত কয়েক হাজার ভুক্তভোগী মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা খেকুয়ানী বাজার সংলগ্ন আমড়াগাছিয়া নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো ও জরাজীর্ণ আয়রন সেতুটি দ্রুত অপসারণ করে সেখানে নতুন একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খরস্রোতা পায়রা নদীর শাখা নদী আমড়াগাছিয়া। নদীটি আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী, কুকুয়া ও আঠারোগাছিয়া—এই তিন ইউনিয়নকে বেষ্টিত করে প্রবাহিত হয়েছে। অঞ্চলের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। একসময় নদীর ১০টিরও বেশি খেয়া নৌকায় মানুষ ও কৃষিপণ্য পারাপার হতো। পরবর্তীতে জনদুর্ভোগ লাঘবে ২০০১ সালে খেকুয়ানী বাজার এলাকায় আয়রন সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু নির্মাণের সময় ব্যাপক অনিয়মের কারণে ২০১০ সালেই সেতুর লোহার খুঁটি তথা বিম বাঁকা হয়ে সেতুটি নিচের দিকে দেবে যায়।
পরবর্তীতে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও গত ১৬ বছর ধরে এই জরাজীর্ণ সেতু দিয়েই গুলিশাখালী ও কুকুয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে যাতায়াত করে আসছিলেন। তবে ২০২০ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী ও বিপজ্জনক ঘোষিত হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সব ধরনের যানবাহন চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকেই দুই ইউনিয়নের যোগাযোগের পথ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এবং খেকুয়ানী বাজারটি চরম অর্থনৈতিক লোকসানের মুখে পড়ে।
বিশেষ করে গুলিশাখালী ইউনিয়নে প্রতি বছর অন্তত ৫০ কোটি টাকার বিপুল তরমুজ উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পাইকারি তরমুজ ক্রেতারা এলাকায় আসতে পারছেন না। ফলে উপযুক্ত দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিপুল লোকসানের মুখে পড়ছেন তরমুজ চাষিরা।
শুক্রবারের বিশাল মানববন্ধনে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ তোফাজ্জেল হাওলাদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মোঃ দেলোয়ার মুন্সি, প্রভাষক ফারুক হোসেন, মোশাররফ হোসেন মোল্লা, কবির পঞ্চায়েত, মোমেন আকন, মোস্তফা ঘরামী ও ইউপি সদস্য ছত্তার মিয়া প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আয়রন সেতুটি অকেজো হয়ে যাওয়ার পর গত পাঁচ বছর ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। দ্রুত গাডার সেতু নির্মাণ না হলে অঞ্চলটি আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের বিষয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস মিয়া। তিনি জানান, আমড়াগাছিয়া নদীর খেকুয়ানী বাজার সংলগ্ন আয়রন সেতুর স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যেই একটি মানসম্মত গাডার সেতু নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং মূল সেতুর নকশা বা ডিজাইনের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।