আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ফল প্রকাশ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। তবে প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে বা তার ফলাফল নিয়ে কোনো সংশয় থাকলে, তারা নির্ধারিত নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) সুযোগ পাবেন। এসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ও পদ্ধতি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষাবোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পর আগামী রোববার (১ নভেম্বর) থেকে অনলাইনে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সরাসরি বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কোনো ধরনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড।
যেভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন:
পুনর্র্নিীক্ষণের আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল (
এরপর আবেদনকারীকে একটি সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। পরবর্তীতে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হলে এই নম্বরেই এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে। নম্বর দেওয়ার পর শিক্ষার্থীর সামনে তার বিষয়ভিত্তিক ফলাফল প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে শিক্ষার্থী যে যে বিষয়ে বা যে নির্দিষ্ট পত্রগুলোর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করাতে ইচ্ছুক, সেগুলোতে টিক দিয়ে ‘ফি প্রদান করুন’ অপশনে এগিয়ে যেতে হবে।
আবেদন ফি ও পরিশোধের মাধ্যম:
শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে যদি প্রথম ও দ্বিতীয়—দুটি পত্র থাকে, তবে উভয় পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। বিষয়গুলো নির্ভুলভাবে নির্বাচন করার পর স্ক্রিনে মোট প্রদেয় ফির পরিমাণ ভেসে উঠবে।
অনলাইন পোর্টালে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস যেমন—বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এবং সোনালী ব্যাংকের ‘সোনালী সেবা’-র মাধ্যমে খুব সহজেই আবেদন ফি পরিশোধ করা যাবে। পেমেন্ট সম্পন্ন করার বিস্তারিত ও সহজ নির্দেশনা জানতে পোর্টালের ‘হেল্প’ অপশনটি অনুসরণ করা যেতে পারে। ফি পরিশোধ করার পর পুনরায় পোর্টালে প্রবেশ করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
শিক্ষাবোর্ড আরও জানিয়েছে, একজন শিক্ষার্থী ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দেওয়ার পরও যদি নতুন কোনো বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের প্রয়োজন মনে করেন, তবে একই পদ্ধতিতে পুনরায় বিষয় নির্বাচন করে ফি পরিশোধ করতে পারবেন; সে ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন সংশোধন বা পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে। ভুল বিষয় নির্বাচন করা হলে ‘মুছে ফেলুন’ অপশনের মাধ্যমে তা বাতিল করে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের আবেদন ফি জমা দেওয়া হয়ে গেলে তা আর কোনোভাবেই বাতিল বা পরিবর্তন করা যাবে না এবং পরিশোধিত ফি কোনো অবস্থাতেই ফেরতযোগ্য নয়।