বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের পুরো স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘রহমান ফাউন্ডেশন ও শক্তি’র উদ্যোগে মোবাইল হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মুশফিকুর রহমান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এমএসআর খাতের টেন্ডারের ৬০-৭০ শতাংশ এবং জেলা পর্যায়েও বিভিন্ন টেন্ডারে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে সরকার স্বাস্থ্যখাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, শিগগিরই প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হবে, যার কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের আটটি বিভাগে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি আগামী দুই মাসে পাঁচটি নতুন শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে এবং প্রায় ১ হাজার ১৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এমন আমূল পরিবর্তন আনা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর বিদেশে যেতে না হয়। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই স্বাস্থ্যখাতের প্রতিটি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।