নীতি-নৈতিকতা ও দ্বীনি শিক্ষার অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন মাদরাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাওয়ায় এসব ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গত অক্টোবর মাসে গাজীপুর, সাভার, কুষ্টিয়া ও পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু নির্যাতনের এমন ঘটনাগুলো অভিভাবক ও সুশীল সমাজকে গভীরভাবে শঙ্কিত করে তুলেছে।
বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযোগ ঘিরে আইনগত মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও বিক্ষুব্ধ জনতা ও অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্তদের মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষাঙ্গনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যকর তদারকি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের তাগিদ দিচ্ছেন দেশটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজ বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ উল্লেখ করেন, মাদরাসাগুলোর ভেতরের পরিবেশকে নৈতিকভাবে শুদ্ধ রাখা এবং জবাবদিহিমূলক স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রাথমিক ও মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপর চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ স্বপ্রণোদিত উদ্যোগ এখানে সবচেয়ে বেশি জরুরি। শিশুরা যাতে দিনে-রাতে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনারও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, শিশু নিরাপত্তার এই চরম সংকটের নেপথ্যে সমন্বিত জাতীয় শিক্ষা দর্শনের অভাব ও সার্বিক নৈতিক অবক্ষয়কে দায়ী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। তার মতে, হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে উপযুক্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধন করা প্রয়োজন। এছাড়া শিশুদের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নির্ধারণ এবং শিশুদের ‘ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শের’ (Good Touch and Bad Touch) পার্থক্য চেনাতে প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতামূলক শিক্ষা প্রদানের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।