বিশ্ব
ফুটবলের শ্রেষ্ঠতম মঞ্চে নিজেকে আবারও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। লন্ডনে আয়োজিত আলোঝলমলে ব্যালন ডি’অর উৎসবে
বিশ্ব ফুটবলের সেরা অনুর্ধ্ব-২১ তরুণ পুরুষ
খেলোয়াড়কে দেয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘কোপা ট্রফি’ টানা তৃতীয় বছরের মতো নিজের করে নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। বর্তমান
ফুটবল বিশ্বের উদীয়মান প্রতিভাদের জন্য বরাদ্দ থাকা এই পুরস্কারটিকে যেন
নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন স্প্যানিশ এই বিস্ময় বালক।
বিশ্বের
বাঘা বাঘা ১০ জন প্রতিভাবান
প্রার্থীর মধ্য থেকে ব্যালন ডি’অর জয়ী
জীবিত ৩৩ জন কিংবদন্তি
ফুটবলারের ভোটের ভিত্তিতে এই বছরের সেরা
হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এই ঐতিহাসিক অর্জন
ফুটবল ইতিহাসে ইয়ামালের একক আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্বকে আরও
একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করল।
বর্তমানে
১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের সামনে
কোপা ট্রফির বয়সসীমা বা ২১ বছর
অতিক্রম করার আগে আরও দুই বছর বাকি রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে,
তার সামনে আগামীতে টানা চারটি বা তারও বেশি
কোপা ট্রফি জেতার এক অভূতপূর্ব ও
অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়ে রয়েছে। এর আগে ২০২৪
সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে
প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতে
ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে এই ট্রফি প্রবর্তনের
পর থেকেই স্প্যানিশ জায়ান্ট এফসি বার্সেলোনা ঐতিহ্যগতভাবে এই পুরস্কারে নিজেদের
একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। ইয়ামালের এই সবশেষ হ্যাটট্রিক
জয়ের ফলে বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড় এখন পর্যন্ত রেকর্ড মোট পাঁচবার এই সম্মানজনক ট্রফিটি
নিজেদের ঘরে তুলল। ইয়ামালের টানা তিনটি পুরস্কারের আগে ২০২১ সালে পেদ্রি এবং ২০২২ সালে গাভি এই ট্রফি জিতে
বার্সার জয়রথ সচল রেখেছিলেন।
বার্সেলোনার
আরেক প্রতিভাবান রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পাও কুবার্সিও এ বছর এই
পুরস্কারের অন্যতম শক্তিশালী ও অন্যতম প্রধান
দাবিদার হিসেবে ফুটবল মহলে বিবেচিত হয়েছিলেন। সবশেষ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পর এই স্প্যানিশ
ডিফেন্ডারকে নিয়ে ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। তবে এস্টানিওলের এই সেন্টার-ব্যাক
লন্ডনের এই জমকালো অনুষ্ঠানে
সশরীরে যাননি। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত ম্যাচের কাজের চাপের মধ্যে থাকায় এবং নিজের শারীরিক বিশ্রামের অত্যন্ত প্রয়োজন বিবেচনা করে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের বিশেষ পরামর্শে তিনি লন্ডনের এই সফরটি বাদ
দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কুবার্সিকে লন্ডনে ক্লাবের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বার্সেলোনার পক্ষ থেকে যে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ
জানানো হয়েছিল, কোচ হান্সি ফ্লিক দলের স্বার্থে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান
করেন।
এদিকে
ব্যালন ডি’অর জয়ী
কিংবদন্তিদের চূড়ান্ত ভোটে নিজের ক্লাব সতীর্থ পাও কুবার্সিকে পেছনে ফেলার পাশাপাশি জায়ের-এমেরি ও ডিওমান্দের মতো
বিশ্বমানের অন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে এই গৌরবময় পুরস্কারটি
নিজের করে নিয়েছেন লামিন ইয়ামাল। মাঠের পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিকতায় ইয়ামাল
যে সমসাময়িক বাকি সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে, এই পুরস্কারের মাধ্যমে
ফুটবল বিশ্ব তা আবারও সানন্দে
লুফে নিল।