ক্রীড়া প্রতিবেদক
লন্ডনের
ঐতিহাসিক প্যালাডিয়াম থিয়েটারের আলোঝলমলে মঞ্চে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রাতটি হয়ে থাকল নতুন ইতিহাস সৃষ্টির সাক্ষী। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের জমকালো ও চোখধাঁধানো আয়োজনে
সম্পন্ন হলো ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর উৎসব।
ফুটবল বিশ্বের সব আলো কেড়ে
নিয়ে এবার পুরুষ ফুটবলে প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই ‘সোনালী বল’ নিজের করে নিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে, নারী ফুটবলের মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব পুনর্ব্যক্ত করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ তৃতীয়বারের মতো এই অনন্য পদক
নিজের হাতের মুঠোয় পুরেছেন স্প্যানিশ তারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। স্পেন এবং ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের একক আধিপত্যের এই রাতে শুধু
মূল দুটি ব্যালন ডি’অর পদকই
নয়, বরং মোট ১৩টি বিভাগে বিশ্ব ফুটবলের সেরা সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।
ব্যালন
ডি’অরের শীর্ষ দুই শ্রেষ্ঠত্ব
লন্ডনের
এই জমকালো মঞ্চে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল
পুরুষ ও নারী বিভাগের
ব্যালন ডি’অর জয়ীদের
নাম ঘোষণা। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাঠ কাঁপানো ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন। এমবাপে এবং লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননাটি উঁচিয়ে ধরেন তিনি। অপরদিকে, নারী ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস ইতিহাস গড়ে বোনমাতির পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন। লন্ডন সিটি লায়নেসের হয়ে খেলা এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের
হাতে তৃতীয়বারের মতো ট্রফিটি ওঠায় নারী ফুটবলে তার একচ্ছত্র আধিপত্য আরও একবার প্রমাণিত হলো।
উদীয়মান তরুণ ফুটবলারদের জয়জয়কার
ভবিষ্যত
ফুটবলের তারকাদের স্বীকৃতি দিতে সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার দেওয়া হয় এই মঞ্চে।
পুরুষ ফুটবলে টানা তৃতীয়বারের মতো সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়ের ট্রফিটি নিজের করে নিয়েছেন স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড
আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে
তার চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের সুবাদেই এই কীর্তি গড়েন।
একইভাবে, মেয়েদের ফুটবলেও বার্সেলোনার আধিপত্য বজায় ছিল। টানা দ্বিতীয়বারের মতো নারী ফুটবলে সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের আরেক প্রতিভাবান ফুটবলার ভিকি লোপেজ। এই দুই তরুণ
তারকার জয়জয়কার এটাই প্রমাণ করে যে স্প্যানিশ ফুটবলের
ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল।
মঞ্চ মাতালেন সেরা দুই মাস্টারমাইন্ড ও গোলরক্ষক
ফুটবলে
মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে যারা ছক আঁকেন, সেই
ডাগআউটের সেরা কোচেদেরও সম্মানিত করা হয়েছে এই আসরে। পুরুষ
ফুটবলে সেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের জাতীয় দলকে একের পর এক সাফল্য
এনে দেওয়া কিংবদন্তি লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
তার অধীনে স্পেন ফুটবল বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, নারী ফুটবলে সেরা কোচের মুকুট পরেছেন বার্সেলোনার ডাগআউট সামলানো সফল কোচ পেরে রোমেউ। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে বাজপাখির মতো দেয়াল তুলে দেওয়া সেরা গোলরক্ষকদের হাতেও উঠেছে ট্রফি। পুরুষ ফুটবলে স্পেনের বিশ্বস্ত হাত উনাই সিমোন জিতেছেন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার। আর নারী ফুটবলে
এই একই গৌরব অর্জন করেছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ প্রাচীর কাতা কোল।
সেরা ক্লাব, স্ট্রাইকার ও সক্রেটিস পুরস্কার
দলগত
পারফরম্যান্সের বিচারে এই রাতে ক্লাব
ফুটবলের শীর্ষ দুই দলকেও পুরস্কৃত করা হয়। মেয়েদের ফুটবলে সেরা ক্লাবের গৌরব ধরে রেখেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। তবে পুরুষ ফুটবলে সবাইকে চমকে দিয়ে বছরের সেরা ক্লাবের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ফরাসি ক্লাব পিএসজি। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের জালে সবচেয়ে বেশি বল জড়ানো গোলদাতাদের
জন্য বরাদ্দ ছিল সেরা স্ট্রাইকারের ট্রফি। পুরুষ ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখের গোলমেশিন হ্যারি কেইন ব্যালন ডি’অরের পাশাপাশি
সেরা পুরুষ স্ট্রাইকারের পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে ভরে ডাবল জয়ের আনন্দ উদযাপন করেন। অন্যদিকে, নারী ফুটবলে মেক্সিকো ও পাচুয়ার হয়ে
আলো ছড়ানো তারকা শার্লিন কোবরাল জিতে নিয়েছেন সেরা নারী স্ট্রাইকার বা সর্বোচ্চ গোলদাতার
পুরস্কার। এছাড়া, ফুটবল মাঠে মানবিক ও সামাজিক কাজের
স্বীকৃতিস্বরূপ অত্যন্ত সম্মানজনক ‘সক্রেটিস পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের তারকা
উইঙ্গার বুকায়ো সাকাকে। সব মিলিয়ে এই
তেরোটি পুরস্কার বিশ্ব ফুটবলের রাজাদের এক অনন্য উচ্চতায়
পৌঁছে দিল।