কক্সবাজারের নয়নাভিরাম পর্যটন এলাকা ইনানীতে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ও বিপজ্জনক ঘটনা। সুপেয় পানির জন্য নলকূপ বসাতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে হঠাৎ গর্জে উঠল অগ্নিকুণ্ড। সশব্দে গ্যাস আর আগুনের লেলিহান শিখা বের হওয়ার এই ঘটনায় পর্যটন কেন্দ্রটির স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন হোটেলের কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার পর্যটন এলাকা ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খননের সময় হঠাৎ তীব্র গতিতে গ্যাসের সঙ্গে ভয়াবহ আগুন বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এমনটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইনানীর ছোট ব্রিজসংলগ্ন বেওয়াচ হোটেল এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিরলস কাজ শুরু করে। তবে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও মাটি থেকে তীব্র গতিতে গ্যাসের সঙ্গে আগুন ও গন্ধযুক্ত ধোঁয়া অনবরত বের হতে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ইনানী এলাকায় সুপেয় পানির জন্য নলকূপ বসাতে মাটিতে বোরিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। পাইপ বসানোর জন্য মাটি খোঁড়ার একপর্যায়ে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে তীব্র বেগে প্রাকৃতির গ্যাসের মতো গ্যাস বের হতে থাকে। তার কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দের সাথে গ্যাসের সঙ্গে আগুনের শিখা দেখা যায়। একই সঙ্গে চারদিকে গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বাসিন্দারা মারাত্মক ভীতি ও আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন, ইনানীর বেওয়াচ হোটেল এলাকায় নলকূপ স্থাপনের জন্য বোরিং করার সময় মাটি থেকে তীব্র গতিতে গ্যাসের সঙ্গে আগুন বের হতে থাকে। খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাটির তলদেশে পকেট গ্যাস বা প্রাকৃতিক গ্যাস জমা থাকায় এমন অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আগুনের তীব্র শিখা কাছাকাছি থাকা প্রধান বৈদ্যুতিক তারে লেগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা বিদ্যুৎ বিপর্যয় এড়াতে তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা রক্ষার্থে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থলের পাশের একটি বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেলে কর্মরত স্থানীয় যুবক আলামিন আতঙ্কের কথা প্রকাশ করে বলেন, ‘যেখানে আগুনের সৃষ্টি হয়েছে, তার ঠিক পাশের ঘরেই আমরা কয়েকজন হোটেলকর্মী থাকি। সকালে হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে বিকট শব্দে আগুন বের হতে দেখে আমরা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যাই। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।’
উখিয়ার ইনানী উপকূলীয় এলাকার মাটি থেকে বের হওয়া এই গ্যাসের প্রকৃতি, তীব্রতা ও প্রকৃত উৎস সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞ দল পর্যবেক্ষণ না করা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের হোটেলগুলোতে তীব্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।