ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,  ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় তীব্র আতঙ্ক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হুথিদের ১ বিলিয়ন ডলার দিতে চায় সৌদি আরব বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক চিরতরে ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কোপা ট্রফিতে বার্সেলোনার রাজত্ব, টানা তিনবার সেরা লামিন ইয়ামাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সানায়ে তাকাইচির উষ্ণ অভ্যর্থনা ইতিহাস গড়ে রেকর্ড তৃতীয়বার ব্যালন ডি’অর জিতলেন পুতেয়াস দীর্ঘ ২৫ বছরের খরা কাটিয়ে প্রথম ইংরেজ হিসেবে ব্যালন ডি'অর জিতলেন কেইন ব্যালন ডি’অরে ১৩ পুরস্কারের মহোৎসব: কে কোন ট্রফি জিতলেন? সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় মা-ছেলেসহ নিহত ৫

মেরিনড্রাইভে ২৫০ অবৈধ রিসোর্ট, সৈকত গিলে খাচ্ছে ব্যবসা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:৩৩ পিএম

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত দৃষ্টিনন্দন মেরিনড্রাইভ সড়কের দুই পাশে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছাড়াই গত পাঁচ বছরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের প্রায় ২৫০টি পর্যটকনির্ভর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা নকশার ছাড়পত্র নেই।

গত ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেরিনড্রাইভ এলাকায় মাত্র ২০ থেকে ২৫টি তারকামানের স্থাপনা বৈধভাবে নকশার অনুমোদন পেয়েছে। বাকি বিশাল সংখ্যক স্থাপনা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক প্রাণহানির পর মেরিনড্রাইভের এই চরম অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ ব্যবসার ভয়ংকর চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড বা বিশ্বমানের সেবার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রতিষ্ঠানটি কেবল ইউনিয়ন পরিষদের একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছিল, যেখানে কউকের কোনো অনুমোদন বা ফায়ার লাইসেন্স ছিল না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টুপটুপ রিসোর্টের দুই প্রান্তে মেরিনড্রাইভের উখিয়া অংশের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে প্রায় ২৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সচল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, বে ওয়াচ, সাগরলতা রিসোর্ট, বেলাভূমি রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলা, দ্য ওয়েভ রিসোর্টস লিমিটেড, হোটেল ইনানী লং বে, ইনানী রয়্যাল রিসোর্ট, ইনানী বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ডেরা রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, সেইলর বিচ রিট্রিট, টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্ট, পেবল স্টোন রিসোর্ট, অ্যান্ড্রোমিডা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ভিলা পাংকৌড়ি, রোয়াং ভেদা কোস্টাল রেসিডেন্স, ড্রিম হলিডে রিসোর্ট, লা বেলা রিসোর্ট, অ্যাঙ্কর ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ওশান নিয়ন রিসোর্ট, রয়্যাল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, বেলাভূমি বিচ ভিলা, আভা বিচ রিসোর্ট, বিচ প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, সি আইল্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং নিউ ভিশন ইনানী অন্যতম। এদের মধ্যে অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ‘ইকো’ বা পরিবেশবান্ধব দাবি করলেও বাস্তবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। মূলত ২০০৯ সালে ‘কোরাল স্টেশন’ ও পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল রয়্যাল টিউলিপের মাধ্যমে এখানে রিসোর্ট তৈরির প্রবণতা বাড়ে। বহু প্রতিষ্ঠান প্রথমে ছোট রেস্টুরেন্ট হিসেবে শুরু করে পরবর্তীতে অবৈধভাবে সেগুলোকে আবাসিক রিসোর্টে রূপান্তর করেছে।

শুধু তা-ই নয়, সোনারপাড়া ও ইনানী সৈকতের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) বালিয়াড়ি ও সৈকত দখল করে গড়ে উঠেছে ‘ঝাউবাগান বিচ রেস্টুরেন্ট’ এবং ‘সাদাবালি’ নামের অবৈধ স্থাপনা। এমনকি কিটকট চেয়ার বসিয়ে সৈকত দখল করে ব্র্যান্ডিং ব্যবসা চালাচ্ছে পালংকি, পেবল স্টোন, বে ওয়াচ, সি পার্লসহ ১০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, সৈকত দখল ও আইনভঙ্গের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, গত এক বছরে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা এবং শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করা হয়েছে। কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসীম উদ্দীন ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কউক, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে চলতি সপ্তাহেই এই সকল অনুমোদনহীন ও অবৈধ রিসোর্ট-রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর