ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,  ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় তীব্র আতঙ্ক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হুথিদের ১ বিলিয়ন ডলার দিতে চায় সৌদি আরব বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক চিরতরে ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কোপা ট্রফিতে বার্সেলোনার রাজত্ব, টানা তিনবার সেরা লামিন ইয়ামাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সানায়ে তাকাইচির উষ্ণ অভ্যর্থনা ইতিহাস গড়ে রেকর্ড তৃতীয়বার ব্যালন ডি’অর জিতলেন পুতেয়াস দীর্ঘ ২৫ বছরের খরা কাটিয়ে প্রথম ইংরেজ হিসেবে ব্যালন ডি'অর জিতলেন কেইন ব্যালন ডি’অরে ১৩ পুরস্কারের মহোৎসব: কে কোন ট্রফি জিতলেন? সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় মা-ছেলেসহ নিহত ৫

মানিক পশারীর কবর খোঁড়ার ছবি ভাইরালের আসল ঘটনা কী?


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:১১ পিএম

জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম সাক্ষী ও গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন এবং তিন নারী কর্তৃক কবর খোঁড়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন, স্থানীয়দের চরম বয়কট ও বাধার মুখে কোনো পুরুষ এগিয়ে না আসায় কেবল তিন নারী মিলেই তাঁর কবর খুঁড়েছেন।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন নারী একা নন, বরং স্থানীয় প্রশাসন, গ্রাম পুলিশ ও কয়েকজন পুরুষের সহায়তায় গভীর রাতে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এরপর তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদরের নিজ গ্রামে আনা হলে দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদান নিয়ে চরম জটিলতার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মতিউর রহমান ও মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী জানান, শনিবার দুপুরে তাঁর বাড়ির কাছে প্রথমে একটি কবর খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু মাগরিবের পর একদল বিক্ষুব্ধ লোক এসে সাঈদীর বিরুদ্ধে 'মিথ্যা সাক্ষ্য' দেওয়ার অভিযোগ তুলে কবরটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিশেষ নির্দেশনায় পুনরায় কবর খোঁড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মতিউর রহমান যখন কোদাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম আনতে হেনা পশারীর বাড়িতে যান, তখন জিসানের ছোট মেয়ে ও দুই বোন মাটি সরানোর কাজে হাত দেন, যার ছবি পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। তবে গ্রাম পুলিশ মতিউর ও স্থানীয় আরেকজন পুরুষ মিলেই মূলত কবরটি খুঁড়েছেন এবং নারীরা তাঁদের কেবল সহযোগিতা করেছেন। ফলে তিন নারী একাই কবর খুঁড়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি আংশিক ও বিভ্রান্তিকর।

পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি উপস্থিতিতে এবং কড়া নিরাপত্তায় রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে মানিক পশারীর দাফন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক এবং স্থানীয় একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁর গার্ড অব অনারের তীব্র বিরোধিতা করলেও কবর ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তবে স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভ ও ‘মব’ সৃষ্টির কারণে বিকেলে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মানিক পশারী পিরোজপুর ছেড়ে টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ে-জামাতার বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর