ক্রীড়া প্রতিবেদক
নারী ফুটবলের সবুজ গালিচায় তিনি যে অনন্য ও অনবদ্য, তা আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করলেন স্প্যানিশ মহাতারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে অবিশ্বাস্য এক মৌসুম কাটানোর অবিনশ্বর স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ নারী ব্যালন ডি'অর নিজের করে নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। লন্ডনের আলোঝলমলে মঞ্চে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত এই পুরস্কারটি হাতে তুলে নেওয়ার পাশাপাশি এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এই গৌরবময় অর্জনের মাধ্যমে পুতেয়াস তার সাবেক ক্লাব সতীর্থ বোনমাতির টানা তিনবার ব্যালন ডি'অর জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ডে নিজের নাম লেখালেন এবং যৌথভাবে সর্বোচ্চ ট্রফি জয়ের আসনে ভাগ বসালেন।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই স্প্যানিশ তারকা যখন সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন, তখন করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। পুরস্কার হাতে নিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন ও বিনম্র সুরে পুতেয়াস বলেন, 'আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। বিশ্ব ফুটবলের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে আবারও ফিরে আসতে পেরে সত্যিই দারুণ লাগছে। ধন্যবাদ জানাচ্ছি ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনকে।' নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, 'যারা মনে করেছেন এই বছর আমি এই বিশেষ পুরস্কারটি পাওয়ার যোগ্য, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই মুহূর্তে আমার সত্যিই কিছু বলার ভাষা নেই, অথচ মনের ভেতর বলার মতো কত কথাই না জমে আছে! আজকের এই বিশেষ রাতের সকল মনোনীত এবং বিজয়ী প্রতিযোগীদের আমি আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।'
অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াসের এই ব্যালন ডি'অর জয়ের পেছনে রয়েছে ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে তার অতিমানবীয় ও চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স। অধিনায়ক হিসেবে তিনি বার্সেলোনাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহাদেশীয় কোয়াড্রপল জেতাতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। তার জাদুকরী নেতৃত্বেই বার্সেলোনা একই মৌসুমে লিগা এফ, কোপা দে লা রেইনা, স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং নারীদের মর্যাদাপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তোলে। একজন ফুটবলারের জন্য ক্লাব ফুটবলে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছুই হতে পারে না।
শুধু দলগত সাফল্যই নয়, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও পুরো মৌসুম জুড়ে উজ্জ্বল ছিলেন পুতেয়াস। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষের জালে জোড়া গোল করার মাধ্যমে তিনি বার্সেলোনার ক্লাব ইতিহাসের যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সেই সাথে টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ খেলার সুবাদে তিনি আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে পুরে নেন। ক্লাবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সমানতালে আলো ছড়িয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। স্পেনের জাতীয় দলের জার্সিতে নারীদের নেশনস লিগ জয়ী দলের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। মাঠের এই চোখধাঁধানো সাফল্য ও ট্রফির মহোৎসবই শেষ পর্যন্ত দুইবারের এই ব্যালন ডি’অর বিজয়ীকে এনে দিল ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।